ডেইলি বাংলাগ্রাম

সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ শিকার: পরীক্ষাগারের অভাবে আদালতে প্রমাণে জটিলতা

সুন্দরবনের নদী ও খালে বিষ দিয়ে মাছ শিকারের ঘটনা আদালতে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণ করা যাচ্ছে না।

সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ শিকার: পরীক্ষাগারের অভাবে আদালতে প্রমাণে জটিলতা

সুন্দরবনের নদী ও খালে বিষ দিয়ে মাছ শিকারের ঘটনা আদালতে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণ করা যাচ্ছে না। নিজস্ব পরীক্ষাগার না থাকা এবং রাসায়নিক পরীক্ষায় দীর্ঘসূত্রতার কারণে এমন জটিলতা তৈরি হচ্ছে। ফলে বিষের বোতল, মাছ ও সরঞ্জামসহ হাতেনাতে ধরা পড়ার পরও আইনি ফাঁকফোকরে পার পেয়ে যাচ্ছেন অপরাধীরা। সাতক্ষীরা বন আদালতের ফরেস্টার জিয়াউর রহমান এবং খুলনা অঞ্চলের বনসংরক্ষক ইমরান আহমেদ জানান, পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণের অভাবেই অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পার পেয়ে যাচ্ছেন।

সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগে গত জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত তিন মাসে এ ধরনের অপরাধে ৩৪টি মামলা হয়েছে। এতে ৩৭ জনকে আসামি করে ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়া ৫৯টি বিষের বোতল, ১৬৭ কেজি চিংড়ি, ১০০ কেজি অন্যান্য মাছ, ৮৯টি নৌকা ও ৭০টি অবৈধ জাল উদ্ধার করা হয়। সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম জানান, একটি ঘটনায় মাছের নমুনা বিসিএসআইআর ও বারিতে পাঠাতেই ১৫ দিন সময় নষ্ট হয়। ফলে শেষ পর্যন্ত বিষের উপস্থিতি আর শনাক্ত করা যায়নি। গত ২২ আগস্ট এক কর্মশালায় বনসংরক্ষক জানান, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা বিষাক্ত মাছ শনাক্তের কিট তৈরিতে কাজ করছে।

বিষাক্ত পানির কারণে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও জলজ প্রাণীর স্বাভাবিক প্রজনন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবদুল্লাহ হারুন চৌধুরী। অন্যদিকে বন আদালতের সাবেক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আজহারুল ইসলাম বলেন, কেবল অভিযান বা গ্রেপ্তার যথেষ্ট নয়। যথাযথ সাক্ষ্য-প্রমাণ ও দ্রুত পরীক্ষার কার্যকর ব্যবস্থা না থাকলে এসব বন অপরাধের মামলা আদালতে দুর্বল হয়ে পড়ে।