ডেইলি বাংলাগ্রাম

মিয়ানমারে বোমা তৈরিতে ব্যবহার হচ্ছে বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া ইউরিয়া সার

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পথে মিয়ানমারে ইউরিয়া সার পাচার হচ্ছে।

মিয়ানমারে বোমা তৈরিতে ব্যবহার হচ্ছে বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া ইউরিয়া সার

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পথে মিয়ানমারে ইউরিয়া সার পাচার হচ্ছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, কৃষিকাজের এই সার দিয়ে মিয়ানমারের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী যুদ্ধক্ষেত্রের জন্য শক্তিশালী বিস্ফোরক ও বোমা তৈরি করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে প্রায়ই সারের চালান ধরা পড়ছে। সারের পাশাপাশি ব্যাটারির অ্যাসিড, কয়লা, চিনি এবং রড-সিমেন্টের মতো নির্মাণসামগ্রীও চড়া দামে সেখানে পাচার করা হচ্ছে।

সীমান্তের এই চোরাচালানে উখিয়া, টেকনাফ, কক্সবাজার ও চট্টগ্রামকেন্দ্রিক ১৫ থেকে ২০টি চক্র জড়িত বলে জানা গেছে। রোহিঙ্গাদের একটি অংশ এই বাণিজ্যে মধ্যস্থতা করছে। অভিযোগ রয়েছে, আরাকান আর্মি (এএ), মিয়ানমার ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স আর্মি (এমএনডিএএ), তা'আং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (টিএনএলএ), কারেন ন্যাশনাল ইউনিয়ন (কেএনইউ) এবং আরসার মতো সশস্ত্র গোষ্ঠী এসব রাসায়নিক সংগ্রহ করছে। উখিয়া থানার ওসি আতিকুর রহমান জানান, ইউরিয়া সারের উপাদান প্রক্রিয়াজাত করে বোমা তৈরি করা সম্ভব।

রসায়নবিদ মোহাম্মদ হারুনুর রশীদ জানান, ইউরিয়া সারে থাকা প্রায় ৪৬ শতাংশ নাইট্রোজেন এবং ব্যাটারির অ্যাসিড নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বোমার কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার হতে পারে। এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিআইএসএ তালিকাতেও ইউরিয়াকে বিস্ফোরক তৈরির রাসায়নিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। তবে মিয়ানমারে বাংলাদেশের সাবেক কনস্যুলেট প্রধান অবসরপ্রাপ্ত মেজর এমদাদুল ইসলাম জানান, সার থেকে বিস্ফোরক উৎপাদন সম্ভব হলেও নির্দিষ্ট কোনো দল তা করছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য তার কাছে নেই।