ডেইলি বাংলাগ্রাম

হাসপাতালে ভর্তি প্রায় অর্ধেক রোগী মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত, সেবাবঞ্চিত বড় অংশ

দেশের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাধীন রোগীদের প্রায় অর্ধেকের মধ্যেই কোনো না কোনো মানসিক রোগ রয়েছে।

হাসপাতালে ভর্তি প্রায় অর্ধেক রোগী মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত, সেবাবঞ্চিত বড় অংশ

দেশের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাধীন রোগীদের প্রায় অর্ধেকের মধ্যেই কোনো না কোনো মানসিক রোগ রয়েছে। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) এক গবেষণায় দেখা গেছে, ভর্তি রোগীদের ৪৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। ক্যানসার আক্রান্তদের ক্ষেত্রে এই হার সর্বোচ্চ ৮৮ দশমিক ২৪ শতাংশ। আজ ‘জীবনের কথা শুনি, বাস্তব পরিবর্তন আনি’ প্রতিপাদ্য নিয়ে পালিত হচ্ছে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস। এমন সময়ে তথ্য মিলছে যে, দেশে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভোগা প্রাপ্তবয়স্কদের ৯২ দশমিক ৩ শতাংশ এবং শিশু-কিশোরদের ৯৪ দশমিক ৫ শতাংশই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাচ্ছেন না।

বিএমইউর মনোরোগবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এমএমএ সালাউদ্দিন কাউসার বিপ্লবের নেতৃত্বে ৩৪২ জন রোগীর ওপর এ গবেষণা চালানো হয়। গত ৩ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক সাময়িকী ‘হেলথ সায়েন্স রিপোর্টসে’ এটি প্রকাশিত হয়। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, মেডিসিন বিভাগের ৫১ দশমিক ৬৪ শতাংশ, সার্জারি বিভাগের ৩৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ এবং স্নায়ুরোগ বিভাগের ৩১ দশমিক ২৫ শতাংশ রোগীর মানসিক রোগ রয়েছে। তবে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার জন্য বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠানো হয় মাত্র ৭ শতাংশ রোগীকে। জাতীয় জরিপ অনুযায়ী, দেশের প্রাপ্তবয়স্কদের ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ এবং শিশু-কিশোরদের ১২ দশমিক ৬ শতাংশ মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত। প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে উদ্বেগজনিত রোগ ৮ দশমিক ৯ শতাংশ এবং বিষণ্ণতা ৬ দশমিক ৭ শতাংশ। এছাড়া শিশুদের মধ্যে আচরণগত জটিলতাসহ ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের দেড় শতাংশ এবং ৭ থেকে ১১ বছর বয়সীদের শূন্য দশমিক ২ শতাংশ মাদকে জড়াচ্ছে।

রোগীর তুলনায় দেশে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার অবকাঠামো ও জনবল অনেক কম। দেশে বর্তমানে মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ রয়েছেন ৩৮০ জন, মনোবিজ্ঞানী ৬০০ জন এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সমাজকর্মী ১০ জন। প্রতি এক লাখ মানুষের জন্য বিশেষজ্ঞের সংখ্যা শূন্য দশমিক ১৯ জন এবং মনোবিজ্ঞানী শূন্য দশমিক ৩০ জন। এছাড়া প্রশিক্ষিত সাধারণ চিকিৎসক ২১ হাজার ২৬৭ জন, স্বাস্থ্যকর্মী ৯ হাজার ৪০০ জন এবং নার্স রয়েছেন ২৮ হাজার ১৬৫ জন। চিকিৎসা সুবিধার মধ্যে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে ৪০০ শয্যা, পাবনা মানসিক হাসপাতালে ৫০০ শয্যা, বিএমইউতে ৪০ শয্যা এবং অন্যান্য সরকারি মেডিকেল কলেজে প্রায় ১৫০টি শয্যা রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সেবা ছড়িয়ে দেওয়ার এবং নতুন পদ সৃষ্টির ওপর জোর দিচ্ছেন। তবে সরকার বাজেট বৃদ্ধি ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিশেষ কর্নার চালুর মতো কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে।