প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন নিয়ে রাজনৈতিক নেতা ও নাগরিক সমাজের উদ্বেগ
বিএনপি সরকারের প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনীর কড়া সমালোচনা করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
বিএনপি সরকারের প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনীর কড়া সমালোচনা করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। তাঁদের মতে, আইনে অপতথ্য ও গুজবের অস্পষ্ট সংজ্ঞা রাখার কারণে নাগরিকদের বাক্স্বাধীনতা এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হতে পারে। এই পদক্ষেপ ডিজিটাল কর্তৃত্ববাদ প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি করবে বলে এক আলোচনা সভায় তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, প্রস্তাবিত বিধানে অপরাধের স্পষ্ট সংজ্ঞা ও নিরপেক্ষ তদন্তের সুযোগ না থাকলে সাধারণ মানুষও আইনি হয়রানির শিকার হবেন। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক সদস্য ড. নাবিলা ইদ্রিস ও এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান ভূঁইয়া মঞ্জু আইনের অপপ্রয়োগের ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেন। পাশাপাশি সাংবাদিক ও বিশ্লেষকেরা জানান, বিচারিক তদারকি ছাড়া কনটেন্ট অপসারণের ক্ষমতা দেওয়া হলে মতপ্রকাশ সংকুচিত হবে এবং সংবাদমাধ্যমে স্ব-আরোপিত সেন্সরশিপ তৈরি হবে।
সভায় এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন ও যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষারসহ অন্য নেতারা জাতীয় ঐকমত্য ছাড়া সংবিধান সংস্কার, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের মতো সংকটগুলো তুলে ধরেন। তাঁরা উল্লেখ করেন, গত ফেব্রুয়ারি মাসে সরকার গঠনের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়ার কারণে একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাই অতীতের মতো নিপীড়নমূলক ব্যবস্থার পুনরাবৃত্তি না ঘটিয়ে মৌলিক অধিকার সুরক্ষায় প্রস্তাবিত সংশোধনী পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান আলোচকেরা।