ডেইলি বাংলাগ্রাম

যুক্তরাষ্ট্রে শতবর্ষ পর ফিরছে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড: এবার সরাসরি সম্প্রচারের উদ্যোগ

যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় নয় দশক পর আবারও প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে শতবর্ষ পর ফিরছে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড: এবার সরাসরি সম্প্রচারের উদ্যোগ

যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় নয় দশক পর আবারও প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০০৯ সালে টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে ১৩ জন সেনাকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচার করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে এই দণ্ড কার্যকর করা হবে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন। তবে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, তিনি এই সম্প্রচার দেখবেন না।

আমেরিকায় সর্বশেষ বড় পরিসরে প্রকাশ্যে ফাঁসি কার্যকর হয়েছিল ১৯৩৬ সালের ১৪ আগস্ট। কেনটাকির ওয়েনসবোরোতে রেইনি বেথিয়া নামের এক কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড দেখতে প্রায় ২০ হাজার মানুষ উপস্থিত হয়েছিল। ওই ঘটনার ১৮ মাস পর কেনটাকিতে প্রকাশ্যে ফাঁসি নিষিদ্ধ করা হয়। এরপর ১৯৩৭ সালে মিসৌরিতে কয়েকশত মানুষের উপস্থিতিতে আরেকটি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়, যা ছিল দেশটির শেষ প্রকাশ্য ফাঁসি। পরবর্তীতে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের ফলে জনসমক্ষে প্রাণদণ্ড দেওয়ার প্রথা বন্ধ হয়ে যায়।

মৃত্যুদণ্ড লাইভ-স্ট্রিম বা সরাসরি সম্প্রচারের এই সিদ্ধান্তে গবেষক ও বিশ্লেষকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই এই উদ্যোগকে বর্বর এবং মৃত্যুদণ্ডকে বিনোদনে পরিণত করার চেষ্টা বলে আখ্যা দিয়েছেন। কলোরাডো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এমেরিটাস মাইকেল রেডলেট জানান, যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণ মানুষের মাঝে মৃত্যুদণ্ডের প্রতি সমর্থন ক্রমাগত কমছে। ১৯৯৪ সালে যেখানে ৮০ শতাংশ নাগরিকের সমর্থন ছিল, বর্তমানে তা কমে ৫২ শতাংশে নেমে এসেছে।