ডেইলি বাংলাগ্রাম

প্রথমবার নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্বাগত ও জাতিসংঘের প্রাতরাশ

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথমবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক এসেছেন তারেক রহমান। জন এফ কেনেডি বিমানবন্দর ও ম্যানহাটনের হোটেলে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনায় বরণ করা হয়।মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আয়োজিত স্বাগত প্রাতরাশে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে তা...

প্রথমবার নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্বাগত ও জাতিসংঘের প্রাতরাশ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ২২ সেপ্টেম্বর সোমবার সন্ধ্যা ৬:২০ টায় টার্কিশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। সেখানে বাংলাদেশী স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান ও রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম স্বাগত জানান। আনুষ্ঠানিকতা শেষে মোটরশোভাযাত্রা দিয়ে তাঁকে হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্ক হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। ২২ সেপ্টেম্বর সকাল ৭:৩০ টায় জাতিসংঘ সদরদপ্তরের নর্থ ডেলিগেটস লাউঞ্জে মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের আয়োজন করা স্বাগত প্রাতরাশে তিনি অংশ নেন। বিশ্বনেতা ও তাঁদের সঙ্গীরা উপস্থিত ছিলেন, সবাই মহাসচিব ও তার স্ত্রীর সঙ্গে ফটো তোলেন। প্রাতরাশের পর ৯ টায় তিনি জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনের উদ্বোধনী পর্বে যোগ দেন।

উদ্বোধনী সেশনের সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও অধিবেশনের সভাপতি ড. খলিলুর রহমান। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে তার প্রথম ভাষণ দেবেন। পূর্বে তার পিতা জিয়াউর রহমান ও মা খালেদা জিয়া বহুবার জাতিসংঘে ভাষণ দিয়েছেন। প্রথম দিনের কর্মসূচিতে তিনি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বঙ্গ এবং হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন। এছাড়া মিয়ানমার বিশেষ দূত জুলি বিশপ, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা, শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালিহ, মানবাধিকার হাইকমিশনার ফলকার তুর্ক এবং মেটা প্ল্যাটফর্মসের প্রধান জোয়েল কাপলানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ নির্ধারিত। সন্ধ্যায় তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আয়োজন করা রাষ্ট্রপ্রধান ও তাঁদের সঙ্গীদের সম্মানিত স্বাগত অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।

২৩ সেপ্টেম্বর তিনি আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানবিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠকে মতবিনিময় করবেন এবং রোহিঙ্গা সংকটের ওপর একটি সাইড ইভেন্টে অংশ নেবেন। একই দিনে তিনি জলবায়ু পদক্ষেপ ও ন্যায়সঙ্গত রূপান্তর বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন, ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেজ প্লেনকোভিচ এবং বোয়িং গ্লোবাল প্রেসিডেন্ট ড. ব্রেন্ডন নেলসনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন। ২৪ সেপ্টেম্বর তিনি জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন, পরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করবেন এবং মাতৃ ও নবজাতকের মৃত্যুহার কমানোর উচ্চপর্যায়ের ফোরামে অংশ নেবেন। একই দিনে তিনি মহাসচিব গুতেরেস এবং থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চর্নভিরাকুলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। ২৫ সেপ্টেম্বর তিনি জেপিমরগান হেডকোয়ার্টার্সে ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠকে যোগ দেবেন, কুয়েতের যুবরাজ শেহ সাবাহ খালেদ আল-হামাদ আল-সাবাহের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন এবং ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট প্রিন্স জাইদ আল হুসেইনের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন। এরপর তিনি নিউইয়র্কে থাকা বিএনপি নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন এবং রাত ১১ টায় এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে ঢাকা ফিরে যাবেন, দুবাইয়ে ট্রান্সিট করে ২৭ সেপ্টেম্বর দেশে পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে।