জুলাই আন্দোলনে আহত মো. ফারুক: শ্রমিক
বাড্ডা আন্দোলনে গুলি‑আহত হয়ে আজও ন্যায্য সহায়তার অপেক্ষায় থাকা মো. ফারুক
মো. ফারুক ১০ এপ্রিল ১৯৮৮-এ নারায়ণগঞ্জের দরিদ্র শ্রমিক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা কাজী ইউনুস তার জন্মের দুই মাস আগেই মারা যান। মা শাহিদা বেগম পাঁচ সন্তানকে একা লালন‑পালন করেন। ছোটবেলায় ফারুক বহু কষ্টের মুখোমুখি হন; শৈশবের বেশিরভাগ সময় তিনি অনাথত্ব ও দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করেন।
শিক্ষা সীমিত থাকায় তিনি দশম শ্রেণি পর্যন্তই পড়াশোনা শেষ করতে পারেননি। উচ্চশিক্ষা না পেয়ে ঢাকায় এসে মেরুল বাড্ডা এলাকায় একটি ক্লাবে দিনমজুরের কাজ শুরু করেন। তিনি অবিবাহিত অবস্থায় কর্মজীবনে দৃঢ়চেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
৫ আগস্ট ২০২৪-এ বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মিছিলে ফারুক সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে ছিলেন। পুলিশ গুলিবর্ষণ করে তার মাথা‑মুখে বহু ছররা বুলেট আঘাত করে। এক চোখের দৃষ্টি চিরতরে হারায়, অন্য চোখে মাত্র ২০% দৃষ্টিশক্তি রয়ে যায়। গুলির ফলে তিনি গুরুতর শারীরিক ও মানসিক ক্ষতভোগী হন।
দীর্ঘ দুই‑মাসের হাসপাতালে থাকা শেষে তিনি নারায়ণগঞ্জের দক্ষিণ সানারপাড়ে বড় ভাই শাহাদাৎ হোসেনের বাড়িতে স্থানান্তরিত হন। মাসিক আয় মাত্র ১০,০০০ টাকা, আর পৈত্রিক সম্পত্তি নদী ভাঙনে বিলীন হয়েছে। তার ছয় বছর বয়সী পুত্রকে দীর্ঘদিন দেখা হয়নি। ফারুক এখনো পুনর্বাসন ও ন্যায্য সহায়তার প্রত্যাশা করে জীবনের সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন।
তথ্য ও ছবি: JulyShohid.com প্রতিবেদনটি প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে নতুনভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে।
সূত্র: [1]