ডেইলি বাংলাগ্রাম

জুলাই আন্দোলনে আহত জুবায়ের হোসেন: ছাত্র

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে আহত হয়েও জুবায়ের হোসেন শিক্ষার পথে অটল

শেয়ার
জুবায়ের হোসেন
জুবায়ের হোসেন

জুবায়ের হোসেন, ২০ নভেম্বর ২০০১-এ কিশোরগঞ্জের চর নোয়াকান্দি গ্রামেই জন্মগ্রহণ করেন। তার পরিবার একটি শ্রমজীবী পরিবার; পিতা রতন মিয়া কৃষিকাজে নিযুক্ত এবং মা পারভীন গৃহিণী। চারটি সন্তান সহ পরিবারের আয় প্রায় দশ হাজার টাকা, যা মূলত বাবার শ্রমিক বেতনের ওপর নির্ভরশীল।

প্রাথমিক শিক্ষা গ্রামের সরকারি বিদ্যালয় থেকে শুরু করে, জুবায়ের প্রতিদিন প্রায় তিন কিলোমিটার পা দিয়ে স্কুলে যেতেন। উচ্চশিক্ষার স্বপ্নে তিনি ঢাকা চলে আসেন এবং কদমতলীর জাপানি বাজারে একটি ছোট মেসে বাস করতে থাকেন। সেখানে তিনি টিউশন কাজ করে নিজের এবং পরিবারের খরচ মেটাচ্ছিলেন।

১৯ জুলাই ২০২৪ তারিখে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সময়, পুলিশ থেকে ছোড়া রাবার বুলেট তার হাঁটুর ওপর আঘাত করে। দুটি বুলেট এখনও তার পায়ের ভেতরে আটকে আছে এবং অপারেশন ছাড়া তা বের করা সম্ভব নয়। এই ঘটনার ফলে তিনি গুরুতর আঘাত পেয়ে চিকিৎসা সেবা ও আর্থিক সহায়তা পেতে ব্যর্থ হচ্ছেন।

আহত হওয়ার পর থেকে জুবায়ের অনার্সের চতুর্থ বর্ষে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি টিউশন থেকে প্রাপ্ত আয় দিয়ে ওষুধ, খাবার এবং ভাড়া মেটাচ্ছেন। যদিও শারীরিক ব্যথা তার দৈনন্দিন কাজকে কঠিন করে তুলেছে, তবু ন্যায়, সমান অধিকার এবং মানবিক রাষ্ট্রের স্বপ্নে তার দৃঢ়তা অটুট রয়ে গেছে।

জুবায়েরের গল্প দেশের অনেক তরুণের মধ্যে এক অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে। তিনি নিজের কষ্টকে অন্যদের জন্য পরিবর্তনের ইচ্ছা হিসেবে ব্যবহার করছেন এবং ভবিষ্যতে একটি ন্যায়সঙ্গত ও মানবিক সমাজ গঠনে অবদান রাখতে চান।

তথ্য ও ছবি: JulyShohid.com প্রতিবেদনটি প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে নতুনভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে।

সূত্র: [1]