ডেইলি বাংলাগ্রাম

জুলাই শহীদ জসিম: রিকশা চালক, শহীদ

শহীদ জসীম (১ মার্চ ১৯৮২‑এ জন্ম), রিকশা চালক, ৫ আগস্ট ২০২৪‑এ উত্তরা ক্রিসেন্ট হাসপাতাল‑এ শহাদত

জসিম
জসিম

জসীম ১ মার্চ ১৯৮২-এ শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলার মাটিয়াকুড়া গ্রামে দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পিতার নাম মরহুম আবুল কাশেম, মায়ের নাম সুরুজ বানু। ছোটবেলা থেকেই পরিবারের কষ্টের সঙ্গে পরিচিত হন।

বিয়ের পর জীবিকার তাগিদে তিনি এবং তার পরিবার ঢাকা‑তে চলে আসেন। উত্তরার নিকটবর্তী দক্ষিণখান, পশ্চিম মোল্লারটেক এলাকায় একটি টিনের বাসায় এক রুম ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন। মাতা সুরুজ বানু দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ এবং ভাঙা পা‑এর কারণে নির্ভরশীল। জসীম ভাঁড়ায় রিকশা চালিয়ে দুই পরিবারের ভরণপোষণ ও মায়ের চিকিৎসা খরচ মেটাতেন।

প্রথম স্ত্রী উশেদা বেগমের সঙ্গে দুইটি ছেলে—মো: রাসেল মিয়া (২৮) ও আকাশ মিয়া (২৫)—আছেন, দুজনই শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। দ্বিতীয় স্ত্রী ফরিদা বেগমের সঙ্গে চারটি সন্তান—মো: রুবেল (২২), মো: ফরহাদ (৭), ফাহিমা (১৭) ও হালিমা (৫)—বসবাস করেন। রুবেল দিনমজুর, ফরহাদ বাইতুন নূর মাদ্রাসা‑তে নূরানি বিভাগে পড়ছেন।

৫ আগস্ট ২০২৪, সোমবার বিকাল ৩.৩০ মিনিটে জসীম বৈষম্যবিরোধী ছাত্রজনতার ডাকা আন্দোলনে অংশ নিতে উত্তরা জসিম উদ্দিন রোড সংলগ্ন মোড়ে উপস্থিত হন। সেখানে পুলিশ ও যুবলীগের সদস্যদের ছোড়া বুলেট তার উরুতে আঘাত করে। তিনি মাটিতে পড়ে যান, রক্তপাতের কারণে দ্রুত ক্রিসেন্ট হাসপাতালে রওনা করা হয়। সন্ধ্যা ৭.০০ টার দিকে, চিকিৎসা প্রচেষ্টার পরেও তিনি প্রাণ হারিয়ে শহাদত গ্রহণ করেন।

পরদিন, ৬ আগস্ট ২০২৪, শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলার মাটিয়াকুড়া গ্রাম মসজিদ প্রাঙ্গণে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এবং পারিবারিক কবরস্থানে সমাহিত করা হয়। প্রতিবেশী জনাব লোকমান শরীফ জানান, “শহীদ জসীম অত্যন্ত ভদ্র মানুষ; কখনো কারো সঙ্গে খারাপ আচরণ দেখিনি, সবসময় কাজের দায়িত্ব পালন করেছেন।”

তথ্য ও ছবি: JulyShohid.com প্রতিবেদনটি প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে নতুনভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে।

সূত্র: [1]