জুলাই শহীদ মো: জোবায়ের বেপারী: ব্যবসায়ী
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশগ্রহণের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ জোবায়ের বেপারীর শেষ মুহূর্তের বর্ণনা
মো: জোবায়ের বেপারী ১ জানুয়ারি ১৯৮১ সালে ঢাকার উত্তরখান দোবাদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা আ: ছুবুর বেপারী (৭৬) অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং মাতা আমেলা বেগম (৫৫) গৃহিণী। উচ্চমাধ্যমিক শেষ করার পর তিনি পুরাতন গাড়ি ক্রয়-বিক্রয় ব্যবসা শুরু করেন এবং নিজের দুই তলা ডুপ্লেক্স বাড়িতে পরিবারসহ থাকতেন। তার স্ত্রী রিফা আক্তার তামান্না চাঁদমনি গৃহিণী, এবং দুই সন্তান রাফিউল বেপারী জায়ান (৭ বছর, নার্সারি) ও রাইয়ান বেপারী মেহরাব (৪ বছর, প্লে) স্কলাস্টিকা স্কুলে পড়ে।
১৯ জুলাই ২০২৪, শুক্রবার সকাল ১১ টার দিকে জোবায়ের বেপারী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যোগদানের উদ্দেশ্যে নিজ বাড়ি থেকে আজমপুরের দিকে রওনা হন। তিনি আজমপুর জামে মসজিদে জুমা নামাজ শেষ করে বিএনএস সেন্টারের পাশে অবস্থান করেন। সেখানে ছাত্র-জনতা ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে, এবং গুলিবিদ্ধ হওয়ার দৃশ্যের মুখোমুখি হন।
পরিস্থিতি তীব্র হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জোবায়ের গুলির উৎস অনুসন্ধান করেন এবং পাশে থাকা ছাত্র-জনতাকে সতর্ক করেন। তবে তিনি নিজেও লক্ষ্যবস্তু হয়ে যান। বিকাল পাঁচটায় তাকে পিঠে গুলি করা হয়, গুলি সরাসরি তার বুকের মধ্য দিয়ে বেরিয়ে আসে। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি রাস্তায় পড়ে যান, তবে তৎক্ষণাতেও জীবিত ছিলেন বলে মনে হয়। ছাত্রজনতা তাকে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে নিয়ে যায়, যেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শহীদ জোবায়ের বেপারীর দেহ ২০ জুলাই সকাল ৯ টায় দোবাদিয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে তার পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। তার শেষকৃত্যকে পরিবার ও প্রতিবেশীরা শোকের সঙ্গে গ্রহণ করেন।
প্রতিবেশী বিল্লাল হোসেনের মতে, জোবায়ের অত্যন্ত সহানুভূতিশীল এবং নম্র স্বভাবের মানুষ ছিলেন। তিনি কখনোই অন্যকে অপ্রয়োজনীয় কষ্ট দেননি এবং গরিব-অসহায়দের সাহায্য করতে সদা প্রস্তুত থাকতেন। তার এই গুণাবলি তাকে এলাকার মানুষের জন্য এক পরোপকারী বন্ধু হিসেবে চিহ্নিত করে।
তথ্য ও ছবি: JulyShohid.com প্রতিবেদনটি প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে নতুনভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে।
সূত্র: [1]