ডেইলি বাংলাগ্রাম

আইএমএফের পর্যালোচনা মিশন ঢাকায়, রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যে ছাড় চাইবে সরকার

ঋণ কর্মসূচির পঞ্চম কিস্তির আগে দুই সপ্তাহের পর্যালোচনা; কর-জিডিপি অনুপাত ও জ্বালানি ভর্তুকি নিয়ে কঠিন আলোচনার আভাস

২ মিনিটে পড়ুন
অর্থ মন্ত্রণালয়ে আইএমএফ মিশনের সঙ্গে বৈঠক
অর্থ মন্ত্রণালয়ে আইএমএফ মিশনের সঙ্গে বৈঠক

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) একটি পর্যালোচনা মিশন আজ ঢাকায় পৌঁছেছে। ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ কর্মসূচির পঞ্চম কিস্তি ছাড়ের আগে দুই সপ্তাহের এই মিশন অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও জ্বালানি বিভাগের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করবে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রায় ছাড় চাওয়া হবে, কারণ গত অর্থবছরে লক্ষ্যের তুলনায় আদায় কম হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা।

কর্মসূচির শর্ত অনুযায়ী কর-জিডিপি অনুপাত প্রতিবছর শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ পয়েন্ট বাড়ানোর কথা, কিন্তু বাস্তবে এটি ৮ শতাংশের কাছাকাছি স্থির রয়েছে, যা দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বনিম্ন। রাজস্ব বোর্ডের একজন সদস্য জানান, অনলাইন রিটার্ন বাধ্যতামূলক করা ও ভ্যাট ফাঁকি রোধে ইলেকট্রনিক চালান ব্যবস্থা চালুর ফলে এ বছর আদায় বাড়ছে, তবে লক্ষ্য পূরণে সময় লাগবে।

অর্থ উপদেষ্টা সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা সংস্কারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, কিন্তু বাস্তবসম্মত লক্ষ্য চাই। মূল্যস্ফীতি কমানো ও রিজার্ভ বাড়ানোর যে দুটি প্রধান শর্ত ছিল, দুটিতেই আমরা এগিয়েছি। রাজস্বের ক্ষেত্রে কর অবকাশ কমানো ও করজাল বাড়ানোর পরিকল্পনা আমরা তাদের সামনে রাখব।” তিনি জানান, কিস্তির অর্থ ডিসেম্বরের মধ্যে পাওয়ার আশা করছে সরকার।

মিশনের আলোচ্যসূচিতে জ্বালানি ভর্তুকি একটি বড় বিষয়। বিদ্যুৎ ও গ্যাসে ভর্তুকি চলতি অর্থবছরে ৩৫ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। আইএমএফ দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানির দাম স্বয়ংক্রিয় মূল্য সমন্বয় পদ্ধতিতে নির্ধারণের পরামর্শ দিয়ে আসছে। সরকার বলছে, মূল্যস্ফীতি সবে নিয়ন্ত্রণে আসতে শুরু করেছে, এখন জ্বালানির দাম বাড়ালে সেই অর্জন ঝুঁকিতে পড়বে।

অর্থনীতিবিদেরা মনে করেন, এবারের আলোচনায় সরকারের দর-কষাকষির অবস্থান আগের চেয়ে শক্ত। একজন অর্থনীতিবিদ বলেন, রিজার্ভ ও রেমিট্যান্সের উন্নতি সরকারকে কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে, তবে রাজস্ব সংস্কারে দেরি করার সুযোগ নেই, কারণ ঋণের সুদ পরিশোধই এখন বাজেটের সবচেয়ে বড় ব্যয় খাত। তিনি বলেন, আইএমএফের চাপকে দেশের নিজের স্বার্থে সংস্কারের সুযোগ হিসেবে দেখা উচিত।

মিশন তাদের সফর শেষে একটি প্রাথমিক বিবৃতি দেবে এবং চূড়ান্ত প্রতিবেদন আইএমএফের নির্বাহী পর্ষদে উপস্থাপন করা হবে। সংস্থাটির ঢাকা কার্যালয় জানিয়েছে, এই সফরে ব্যাংক একীভূতকরণের রোডম্যাপ ও পুঁজিবাজার সংস্কার নিয়েও আলোচনা হবে। কর্মসূচির মেয়াদ আগামী বছরের মাঝামাঝি শেষ হওয়ার কথা।