আগস্টে রেকর্ড রেমিট্যান্স: এক মাসে দেশে এল ৩১০ কোটি ডলার
এক মাসে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের নতুন রেকর্ড; বৈধ পথে পাঠানোয় প্রণোদনা ও হুন্ডি দমনের ফল বলছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, রিজার্ভ বেড়ে ৩০ বিলিয়নের কাছে
প্রবাসী আয়ে নতুন রেকর্ড গড়ল বাংলাদেশ। সদ্য সমাপ্ত আগস্ট মাসে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ৩১০ কোটি ডলার, যা এক মাসে সর্বোচ্চ। বাংলাদেশ ব্যাংকের আজ প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, এটি গত বছরের আগস্টের তুলনায় ২৪ শতাংশ বেশি এবং আগের রেকর্ড মাসের তুলনায় ১৫ কোটি ডলার বেশি। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৫৯০ কোটি ডলার।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, “ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের বিনিময় হার বাজারভিত্তিক হওয়ায় হুন্ডির সঙ্গে ব্যবধান কমে গেছে। এর সঙ্গে প্রণোদনা, মোবাইলে সরাসরি রেমিট্যান্স আনার সুবিধা এবং হুন্ডিবিরোধী অভিযান মিলিয়ে প্রবাসীরা এখন বৈধ পথেই টাকা পাঠাচ্ছেন। এটি একটি কাঠামোগত পরিবর্তনের সংকেত।”
দেশভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে, এর পর সৌদি আরব, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও মালয়েশিয়া। ব্যাংকারদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য থেকে আসা অর্থের একটি বড় অংশ এখন মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে সরাসরি গ্রামের প্রাপকের হাতে পৌঁছাচ্ছে, যা আগে ব্যাংকের শাখায় গিয়ে তুলতে হতো।
রেকর্ড রেমিট্যান্সের সুফল পড়েছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের হিসাব পদ্ধতিতে রিজার্ভ এখন ২ হাজার ৯৮০ কোটি ডলার, যা গত দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। আন্তব্যাংক বাজারে ডলারের দর স্থিতিশীল রয়েছে ১১৯ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে। আমদানি ঋণপত্র খোলায় যে সংকট গত বছর ছিল, তা অনেকটাই কেটে গেছে বলে জানিয়েছেন ব্যাংকাররা।
অর্থনীতিবিদেরা রেকর্ডকে স্বাগত জানালেও সতর্ক করছেন। একজন অর্থনীতিবিদ বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা দীর্ঘ হলে সেখান থেকে আসা রেমিট্যান্সে ধাক্কা লাগতে পারে, আর কোরবানির ঈদের মতো মৌসুমি কারণেও কোনো কোনো মাসে প্রবাহ বাড়ে। তাই একটি মাসের রেকর্ড দেখে দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না।
তিনি আরও বলেন, রেমিট্যান্সের এই প্রবাহকে টেকসই করতে হলে দক্ষ কর্মী পাঠানোর হার বাড়াতে হবে, কারণ বর্তমানে বিদেশে যাওয়া কর্মীদের ৭০ শতাংশের বেশি অদক্ষ বা স্বল্পদক্ষ। সরকার জানিয়েছে, প্রবাসীদের জন্য নতুন বিনিয়োগ বন্ড ও পেনশন সুবিধা চালুর প্রস্তাব চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে, যাতে রেমিট্যান্সের একটি অংশ ভোগ ছাড়িয়ে বিনিয়োগেও যায়।