খাদ্য মূল্যস্ফীতি নামল ৮ শতাংশের নিচে, দুই বছরে সর্বনিম্ন
আগস্টে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৬ শতাংশ; চাল ও সবজির দাম কমলেও ভোজ্যতেল ও মাছের দাম এখনো চড়া বলছে পরিসংখ্যান ব্যুরো
দুই বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশের নিচে নেমেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর আজ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক ৮ শতাংশ, যা জুলাইয়ে ছিল ৮ দশমিক ৯ শতাংশ। সার্বিক মূল্যস্ফীতি নেমে এসেছে ৭ দশমিক ৬ শতাংশে। এক বছর আগে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ১০ শতাংশের ওপরে।
মূল্যস্ফীতি কমার প্রধান কারণ হিসেবে ব্যুরো চালের দামের স্থিতিশীলতা ও সবজির সরবরাহ বাড়ার কথা বলেছে। বোরো মৌসুমে রেকর্ড উৎপাদন এবং সরকারি গুদামে ২০ লাখ টনের বেশি মজুত থাকায় মোটা চালের দাম গত তিন মাসে কেজিতে ৪ থেকে ৫ টাকা কমেছে। বর্ষার শেষে সবজির সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় বেগুন, পটোল ও ঢেঁড়সের দাম কমেছে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ।
তবে সব পণ্যের দাম কমেনি। ভোজ্যতেলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারের কারণে এখনো চড়া, আর মাছ ও গরুর মাংসের দাম গত বছরের তুলনায় ১০ থেকে ১২ শতাংশ বেশি। রাজধানীর কারওয়ান বাজারের একজন ক্রেতা বলেন, চাল আর সবজি কিছুটা কমলেও মাছ-মাংসের দোকানে গেলে বোঝা যায় দাম কমেছে বলে মনে হয় না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এক অনুষ্ঠানে বলেন, “সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির ফল আসতে সময় লেগেছে, কিন্তু এসেছে। আমরা এখনই নীতি সুদহার কমানোর কথা ভাবছি না। মূল্যস্ফীতি টানা তিন মাস ৭ শতাংশের নিচে থাকলে তখন বিবেচনা করা হবে।” বর্তমানে নীতি সুদহার ১০ শতাংশ, যা গত দেড় বছর অপরিবর্তিত।
অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, মূল্যস্ফীতি কমার এই ধারা ধরে রাখতে হলে আমদানি নির্ভর পণ্যের সরবরাহ শৃঙ্খলে নজর দিতে হবে। একজন অর্থনীতিবিদ বলেন, গত দুই বছরে সাধারণ মানুষের প্রকৃত আয় কমেছে; মূল্যস্ফীতি কমলেও দাম আগের জায়গায় ফিরছে না, তাই নিম্ন আয়ের মানুষের স্বস্তি ফিরতে সময় লাগবে। তিনি খোলাবাজারে বিক্রি কার্যক্রম আরও কিছুদিন চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
মূল্যস্ফীতি কমার প্রভাব পড়েছে সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক আমানতের প্রকৃত সুদহারে, যা দুই বছর পর ইতিবাচক হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি আমানতকারীদের জন্য সুখবর হলেও ব্যবসায়ীরা এখন সুদহার কমানোর জন্য চাপ বাড়াবেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগামী রমজানের আগেই ভোজ্যতেল, চিনি ও ছোলার আমদানি শুল্ক পর্যালোচনা করা হবে।