টানা পাঁচ দিন উত্থানে পুঁজিবাজার, প্রধান সূচক ফিরল ছয় হাজারের ঘরে
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন ছাড়াল ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা; ব্যাংক ও ওষুধ খাতের শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ, তবে সতর্ক করছেন বিশ্লেষকেরা
দীর্ঘ মন্দার পর পুঁজিবাজারে চাঙাভাব ফিরেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক আজ ৭৮ পয়েন্ট বেড়ে ৬ হাজার ৪২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, যা প্রায় দেড় বছর পর ছয় হাজারের ঘরে ফেরা। টানা পাঁচ কার্যদিবসে সূচক বেড়েছে মোট ৩১০ পয়েন্ট। আজ লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ২৩০ কোটি টাকা, যা গত এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
বাজার-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মূল্যস্ফীতি কমে আসা, রেমিট্যান্সের রেকর্ড এবং ব্যাংক খাতে সংস্কারের ঘোষণা মিলিয়ে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরতে শুরু করেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার নতুন কমিশনের কয়েকটি সিদ্ধান্ত, যেমন কারসাজিতে জড়িত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা এবং তালিকাভুক্ত কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন যাচাইয়ে বিশেষ নিরীক্ষা।
একটি ব্রোকারেজ হাউসের প্রধান নির্বাহী বলেন, “প্রায় দুই বছর ভালো কোম্পানির শেয়ার অস্বাভাবিক কম দামে পড়ে ছিল। মূল্যস্ফীতি কমার সংকেত পেয়ে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা প্রথমে ঢুকেছে, এখন সাধারণ বিনিয়োগকারীরাও ফিরছেন। ব্যাংক, ওষুধ ও জ্বালানি খাতের শেয়ারেই মূল আগ্রহ।” আজ লেনদেনের ৩০ শতাংশের বেশি হয়েছে ব্যাংক খাতে।
তবে বিশ্লেষকেরা অতি উৎসাহের বিষয়ে সতর্ক করছেন। একজন পুঁজিবাজার বিশ্লেষক বলেন, পাঁচ দিনে কিছু দুর্বল মৌলভিত্তির কোম্পানির শেয়ারও ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ বেড়েছে, যা স্বাভাবিক নয়। অতীতে এ ধরনের উত্থানের পর কারসাজির চক্র সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বিপদে ফেলেছে। তিনি কোম্পানির আয় ও লভ্যাংশের ইতিহাস দেখে বিনিয়োগের পরামর্শ দেন।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার একজন কমিশনার জানান, অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি হওয়া ১২টি কোম্পানির লেনদেন তাঁরা নজরদারিতে রেখেছেন এবং প্রয়োজনে তদন্ত করা হবে। তিনি বলেন, বাজার স্বাভাবিক গতিতে বাড়ুক, এটাই তাঁরা চান; কৃত্রিমভাবে ফোলানো বাজার কারও উপকারে আসে না।
বাজারে নতুন বিনিয়োগ আসার পথও তৈরি হচ্ছে। দুটি বড় সরকারি প্রতিষ্ঠান ও একটি বহুজাতিক কোম্পানির শেয়ার তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে, যা বাজারে ভালো শেয়ারের সরবরাহ বাড়াবে। এ ছাড়া প্রবাসীদের জন্য অনলাইনে বিও হিসাব খোলা ও লেনদেনের সুবিধা এ মাসেই চালু হওয়ার কথা। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও আজ সূচক ও লেনদেন উভয়ই বেড়েছে।