পোশাক রপ্তানিতে নতুন বাজারের জোয়ার: জাপান ও অস্ট্রেলিয়ায় প্রবৃদ্ধি ২২ শতাংশ
অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে মোট পোশাক রপ্তানি ৭৯০ কোটি ডলার; প্রচলিত বাজারে ধীরগতি হলেও অপ্রচলিত বাজারে দ্রুত বাড়ছে অর্ডার
চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে নতুন বাজারে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জুলাই-আগস্টে জাপান ও অস্ট্রেলিয়ায় পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ২২ শতাংশ, ভারতে ১৮ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ায় ১৫ শতাংশ। একই সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবৃদ্ধি ছিল ৫ শতাংশের নিচে।
দুই মাসে মোট পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৭৯০ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। অপ্রচলিত বাজারের হিস্যা এখন মোট রপ্তানির ১৯ শতাংশ, যা পাঁচ বছর আগে ছিল ১২ শতাংশের কাছাকাছি। রপ্তানিকারকেরা বলছেন, প্রচলিত বাজারে ক্রেতাদের মজুত বেশি ও চাহিদা দুর্বল থাকায় নতুন বাজারই এখন প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি।
পোশাক রপ্তানিকারকদের শীর্ষ সংগঠনের সভাপতি বলেন, “জাপানের ক্রেতারা মান ও সময়মতো সরবরাহে খুব কড়া। আমরা যে সেখানে টানা তিন বছর প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পেরেছি, তা আমাদের কারখানাগুলোর সক্ষমতার স্বীকৃতি। অস্ট্রেলিয়ায় শুল্কমুক্ত সুবিধা আর সরাসরি ফ্লাইটও সহায়ক হয়েছে।” তিনি জানান, নভেম্বরে টোকিওতে বাংলাদেশি পোশাকের একটি একক প্রদর্শনী হবে।
নারায়ণগঞ্জের একটি মাঝারি কারখানার মালিক বলেন, দুই বছর আগে তাঁর ৯০ শতাংশ অর্ডার ছিল ইউরোপের, এখন ৩০ শতাংশই জাপান ও কোরিয়ার। এসব ক্রেতা অর্ডার ছোট দেন, কিন্তু দাম ভালো এবং সময়মতো টাকা দেন। তবে তাঁর মতে, নতুন বাজারের চাহিদা মেটাতে ছোট লটে দ্রুত উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি করতে হচ্ছে, যা অনেক কারখানার নেই।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, বাজার বৈচিত্র্যের এই অগ্রগতি ইতিবাচক, তবে পণ্যের বৈচিত্র্য এখনো সীমিত। রপ্তানির ৭০ শতাংশের বেশি এখনো পাঁচটি মৌলিক পণ্যে সীমাবদ্ধ। একজন বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ বলেন, ২০২৬ সালের নভেম্বরে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পর ইউরোপে শুল্কমুক্ত সুবিধা ধাপে ধাপে কমবে, তাই নতুন বাজার ও উচ্চমূল্যের পণ্যে যাওয়া এখন বাধ্যতামূলক।
সংগঠনের হিসাবে, চলতি অর্থবছরে পোশাক রপ্তানি ৫ হাজার কোটি ডলার ছাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে। এ জন্য তারা সরকারের কাছে নতুন বাজারে রপ্তানির ওপর নগদ সহায়তা আরও দুই বছর বহাল রাখা, বন্ডেড গুদামের নিয়ম সহজ করা এবং চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার জট কমানোর দাবি জানিয়েছে। বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেছেন, দাবিগুলো সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।