দুর্বল পাঁচ ব্যাংক একীভূত করার রোডম্যাপ ঘোষণা, আমানত সুরক্ষার নিশ্চয়তা
খেলাপি ঋণে জর্জরিত ব্যাংকগুলোকে দুটি সবল ব্যাংকের সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়া হবে; আমানতকারীদের টাকা পুরোপুরি সুরক্ষিত থাকবে বলে আশ্বাস
ব্যাংক খাত সংস্কারের সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ হিসেবে দুর্বল পাঁচটি বেসরকারি ব্যাংককে একীভূত করার রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আজ সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর জানান, খেলাপি ঋণ ও মূলধন ঘাটতিতে জর্জরিত এই ব্যাংকগুলোকে আগামী ছয় মাসের মধ্যে দুটি তুলনামূলক সবল ব্যাংকের সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়া হবে। প্রক্রিয়া চলাকালে আমানতকারীদের টাকা পুরোপুরি সুরক্ষিত থাকবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে এই পাঁচ ব্যাংকের মোট আমানত প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকা এবং খেলাপি ঋণের হার ৪০ থেকে ৭০ শতাংশ। গত দুই বছরে এগুলোকে তারল্য সহায়তা দিতে হয়েছে ২৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। গভর্নর বলেন, বিশেষ নিরীক্ষায় দেখা গেছে, এসব ব্যাংকের বড় অংশের ঋণ গেছে পরিচালকদের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে এবং কাগুজে কোম্পানিতে।
গভর্নর বলেন, “আমানতকারীদের এক টাকাও হারাতে হবে না, এটা আমাদের অঙ্গীকার। একীভূত হওয়ার পর তাঁরা নতুন ব্যাংকের গ্রাহক হবেন এবং আগের সব সুবিধা পাবেন। তবে যেসব পরিচালক ব্যাংক লুটে জড়িত, তাঁদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে অর্থ ফেরানোর প্রক্রিয়া চলবে; এখানে কোনো ছাড় নেই।” তিনি জানান, একীভূত ব্যাংকগুলোতে সরকারি পুনঃমূলধন সহায়তা ও আন্তর্জাতিক সংস্থার কারিগরি সহায়তা থাকবে।
রোডম্যাপ অনুযায়ী প্রতিটি ব্যাংকের সম্পদ ও দায়ের স্বাধীন মূল্যায়ন করবে আন্তর্জাতিক নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান। খারাপ ঋণগুলো একটি আলাদা ‘সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি’তে সরিয়ে নেওয়া হবে, যাতে সবল ব্যাংকের ওপর বোঝা না পড়ে। কর্মীদের বিষয়ে বলা হয়েছে, প্রথম দুই বছর কাউকে ছাঁটাই করা হবে না, তবে শাখা পুনর্বিন্যাসে বদলি হতে পারে।
ব্যাংক খাতের বিশ্লেষকেরা সিদ্ধান্তকে সাহসী বলেছেন, তবে সবল ব্যাংকের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন। একজন সাবেক ব্যাংকার বলেন, দুর্বল ব্যাংকের দায় যদি সঠিকভাবে আলাদা না করা হয়, তবে সবল ব্যাংকও দুর্বল হয়ে যাবে; অতীতে একটি বিশেষায়িত ব্যাংকের ক্ষেত্রে এমন হয়েছে। সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানির আইনি কাঠামো দ্রুত চূড়ান্ত করা এখন সবচেয়ে জরুরি।
ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সংগঠন চাকরির নিশ্চয়তা লিখিত আকারে চেয়েছে। আর আমানতকারীদের মধ্যে আজ কিছুটা উদ্বেগ দেখা গেছে; কয়েকটি শাখায় টাকা তোলার চাপ বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, সব শাখায় পর্যাপ্ত নগদ সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে এবং আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। আগামী সপ্তাহে একীভূতকরণের বিস্তারিত সময়সূচি প্রকাশ করা হবে।