তারল্যসংকটের ছয় ব্যাংকে চট্টগ্রাম বন্দরের ১,২০০ কোটি টাকা আটকা
তারল্যসংকটে ভোগা ছয়টি ব্যাংকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার বেশি স্থায়ী আমানত আটকে পড়েছে।
তারল্যসংকটে ভোগা ছয়টি ব্যাংকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার বেশি স্থায়ী আমানত আটকে পড়েছে। সোমবার জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটির বৈঠকে উত্থাপিত নিরীক্ষা প্রতিবেদনে এই তথ্য জানা গেছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিগত সরকারের সময় রাখা এই আমানতের মূল টাকা ও মুনাফা বর্তমানে ফেরত পাওয়া যাচ্ছে না। আন্তর্জাতিক আর্থিক মানদণ্ড অনুযায়ী সম্ভাব্য এই ক্ষতির বিপরীতে বন্দর কর্তৃপক্ষ কোনো সংস্থানও রাখেনি। সংসদীয় কমিটি আটকে থাকা এসব মেয়াদোত্তীর্ণ আমানত দ্রুত ফেরত আনার উদ্যোগ নিতে নির্দেশ দিয়েছে।
নিরীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী, বন্দর কর্তৃপক্ষের মোট স্থায়ী আমানত রয়েছে ১১ হাজার ১৩৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে পদ্মা ব্যাংকে ১৭৯ কোটি ৩১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং একীভূত হওয়া পাঁচটি ধারার ইসলামী ব্যাংকে ১ হাজার ৮২ কোটি টাকা জমা আছে। বৈঠকে চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়ায় প্রায় ৩০০ কোটি টাকার জেটি নির্মাণে অগ্রগতি না থাকায় নৌবাহিনীর সঙ্গে চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। পাশাপাশি নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ডের চুক্তি পর্যালোচনা এবং বন্দরে পড়ে থাকা নিলামযোগ্য কনটেইনার ও গাড়ি দ্রুত নিষ্পত্তির তাগিদ দেওয়া হয়।
বৈঠকে পায়রা ও মোংলা বন্দরের ড্রেজিং প্রকল্পে অর্থ অপচয় নিয়েও গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। পায়রা বন্দরে ৬ হাজার ২৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে খননের পরও চ্যানেলের গভীরতা ৫ মিটারে অপরিবর্তিত রয়েছে। একইভাবে মোংলা বন্দরে ১২৪ কোটি ৫৩ লাখ টাকা খরচের পরও কাঙ্ক্ষিত গভীরতা না পাওয়ায় বড় জাহাজ ভিড়তে পারছে না। কমিটি এই দুই প্রকল্পের ব্যর্থতা খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায় নির্ধারণের নির্দেশ দিয়েছে। কমিটির সভাপতি ও চিফ হুইপ নূরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সংসদ সচিবালয়ে এই পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।