ডেইলি বাংলাগ্রাম

২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর ছিল ইতিহাসের দ্বিতীয় উষ্ণতম: ইউরোপীয় জলবায়ু সংস্থা

বিশ্বজুড়ে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসটি ইতিহাসের দ্বিতীয় উষ্ণতম সেপ্টেম্বর হিসেবে রেকর্ড গড়েছে।

২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর ছিল ইতিহাসের দ্বিতীয় উষ্ণতম: ইউরোপীয় জলবায়ু সংস্থা

বিশ্বজুড়ে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসটি ইতিহাসের দ্বিতীয় উষ্ণতম সেপ্টেম্বর হিসেবে রেকর্ড গড়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিস সোমবার এই তথ্য প্রকাশ করে। এ মাসে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা প্রাক-শিল্প যুগের চেয়ে ১.৬৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। চলতি বছর এ নিয়ে টানা দুই মাস বৈশ্বিক তাপমাত্রা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের সীমা অতিক্রম করল। গত মাসে বিশ্বের ভূপৃষ্ঠের গড় বায়ু তাপমাত্রা ছিল ১৬.২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ১৯৯১ থেকে ২০২০ সালের গড় তাপমাত্রার চেয়ে ০.৮২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি।

সংস্থাটির পরিচালক কার্লো বুওনটেম্পো জানান, তীব্র গ্রীষ্মের পর ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে অস্বাভাবিক উষ্ণতা দেখা গেছে। এল নিনো শক্তিশালী হতে থাকায় এই তাপমাত্রা বৃদ্ধির ধারা ২০২৭ সাল পর্যন্ত চলতে পারে। ইউরোপে সামগ্রিকভাবে এটি ছিল তৃতীয় উষ্ণতম সেপ্টেম্বর। সেখানে গড় তাপমাত্রা ছিল ১৬.২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে পশ্চিম ইউরোপে তাপমাত্রা যৌথভাবে ২০২৩ সালের রেকর্ডের সমান হয়, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ২.৫১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি। দীর্ঘস্থায়ী খরার কারণে রাইন, দানিউব, ভিস্তুলা এবং গারোন-দোরদোন নদীর পানিপ্রবাহ নেমে যায় রেকর্ড সর্বনিম্নে। এছাড়া ফ্রান্স, ইতালি, গ্রিস, আইবেরিয়ান উপদ্বীপ ও পশ্চিম বলকানে শুষ্ক পরিস্থিতি তীব্র আকার ধারণ করে।

গত মাসে বিশ্বের মহাসাগরগুলোর উপরিভাগের গড় তাপমাত্রা ২১.০৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছিল, যা সেপ্টেম্বরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এল নিনোর প্রভাবে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় প্রশান্ত মহাসাগরে পানির তাপমাত্রা অনেক বেশি ছিল। ইউরোপ ছাড়াও উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা, উত্তর আফ্রিকা, হর্ন অব আফ্রিকা, সাইবেরিয়া, মধ্য এশিয়া, পাকিস্তান, চীন এবং দক্ষিণ-পূর্ব অস্ট্রেলিয়ায় বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের চেয়ে কম হয়েছে। পাশাপাশি এ সময়ে অ্যান্টার্কটিকার বরফের বিস্তার স্যাটেলাইট রেকর্ডের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বনিম্ন এবং আর্কটিকের বরফের বিস্তার চতুর্দশ সর্বনিম্ন অবস্থানে পৌঁছায়।