ডেইলি বাংলাগ্রাম

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অচলাবস্থা থেকে ফ্রান্সে তীব্র সংকট, বাড়ছে রাজনৈতিক অস্থিরতা

ফ্রান্সে জরাজীর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শ্রেণিকক্ষের বেহাল দশাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া ছাত্রবিক্ষোভ এখন গভীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটে রূপ নিয়েছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অচলাবস্থা থেকে ফ্রান্সে তীব্র সংকট, বাড়ছে রাজনৈতিক অস্থিরতা

ফ্রান্সে জরাজীর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শ্রেণিকক্ষের বেহাল দশাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া ছাত্রবিক্ষোভ এখন গভীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটে রূপ নিয়েছে। সম্প্রতি দেশটিতে অন্তত ১৪১টি বিদ্যালয় বন্ধ রাখা হয়। ফ্রান্সে হাজার কোটি অর্থ ব্যয়ের পরও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অবকাঠামো সংকট এবং প্রায় ১০ শতাংশ পাঠদানের সময় শিক্ষক না থাকার প্রতিবাদে গত সেপ্টেম্বর থেকে এই অসন্তোষ শুরু হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশটির উচ্চ ঋণ, প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর দুর্বল রাজনৈতিক অবস্থান এবং দলগুলোর মুখোমুখি অবস্থানের কারণে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক ক্ষোভ বড় ধরনের রাজনৈতিক সংঘাতে রূপ নিচ্ছে।

শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যাপক বরাদ্দ থাকলেও অবকাঠামো খাতে ব্যয় হচ্ছে খুবই কম। ফ্রান্সের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষা বাজেটের ৭২ শতাংশ ব্যয় হয় বেতন, সামাজিক সুরক্ষা ও পেনশনে, যেখানে অবকাঠামো ও সরঞ্জামে বিনিয়োগ মাত্র ৮ দশমিক ৫ শতাংশ। ওইসিডি-র তথ্যমতে, ২০২৩ সালে উচ্চমাধ্যমিকে শিক্ষার্থীপ্রতি ফ্রান্স ব্যয় করেছে ১৬ হাজার ৬৭৪ ডলার, যা আন্তর্জাতিক গড়ের চেয়ে অনেক বেশি। তবে দেশটির জাতীয় ঋণ ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে জিডিপির ১১৭ দশমিক ৬ শতাংশে পৌঁছেছে। এই তীব্র আর্থিক সংকটের কারণে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে ক্ষোভ প্রশমনের সুযোগও সরকারের জন্য সীমিত হয়ে পড়েছে। বিক্ষোভের মুখে শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার্দ জেফ্রায় সম্প্রতি জরুরি ভিত্তিতে ৩ হাজার শিক্ষক নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছেন।

বিদ্যমান পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান ল্যাকরনুর সরকার বড় ধরনের রাজনৈতিক অচলাবস্থার মুখে পড়েছে। ২০২৪ সালের আগাম নির্বাচনের পর পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় মাখোঁর দল কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারছে না। এদিকে অভিযোগ উঠেছে, ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে জঁ-লুক মেলঁশোঁর দল ‘লা ফ্রান্স ইনসুমিজ’ (এলএফআই) সহ কট্টর বামপন্থী ও বিভিন্ন গোষ্ঠী এই অসন্তোষকে উসকে দিচ্ছে। তবে দলটি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। শ্রেণিকক্ষের অব্যবস্থাপনা নিয়ে শুরু হওয়া আন্দোলন এখন ফ্রান্সের রাজনৈতিক সমঝোতা ও অর্থনৈতিক সক্ষমতার এক কঠিন পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।