দিল্লির কড়াকড়ির সঙ্গে কাশ্মীরের তুলনা ওমর ও মেহবুবার, সমালোচনা উপত্যকায়
নয়াদিল্লিতে একটি বিক্ষোভ কর্মসূচি ঠেকাতে নেওয়া কঠোর ব্যবস্থার সঙ্গে কাশ্মীরের পরিস্থিতির তুলনা করেছেন জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ এবং পিডিপির প্রধান মেহবুবা মুফতি।
নয়াদিল্লিতে একটি বিক্ষোভ কর্মসূচি ঠেকাতে নেওয়া কঠোর ব্যবস্থার সঙ্গে কাশ্মীরের পরিস্থিতির তুলনা করেছেন জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ এবং পিডিপির প্রধান মেহবুবা মুফতি। তারা অভিযোগ করেন, ২০১৯ সালের আগস্টে ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের পর কাশ্মীরে যে ধরনের কঠোর বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছিল, এখন রাজধানীতেও সেই ‘কাশ্মীর মডেল’ প্রয়োগ করা হচ্ছে। তবে দুই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ভিন্ন পরিস্থিতিকে এভাবে এক পাল্লায় মাপার কারণে উপত্যকার একাংশের মানুষের মধ্যে এই মন্তব্যের বিরুদ্ধে সমালোচনা দেখা দিয়েছে।
ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রস্তাবিত বিক্ষোভ ঠেকাতে নতুন দিল্লি এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১৬৩ ধারা জারি এবং ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখা হয়। এছাড়া চলাচল নিয়ন্ত্রণে প্রায় ২৫ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। বিক্ষোভকারীরা জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া বন্ধের দাবি জানাচ্ছেন। এর প্রেক্ষিতে ওমর আবদুল্লাহ অভিযোগ করেন, গণতন্ত্র ক্ষুণ্ন করে ‘কাশ্মীর মডেল’ দিল্লিতে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পিডিপি প্রধান মেহবুবা মুফতি ও নেত্রী ইলতিজা মুফতি বলেন, ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের পর কাশ্মীরের মতো দিল্লিতেও বলপ্রয়োগ করে মানুষের মতপ্রকাশের অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।
তবে এই তুলনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন কাশ্মীরের স্থানীয় সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষ। সাংবাদিক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা সাজাদ রসুল এবং সাংবাদিক মোহাম্মদ রফি একে অন্যায্য তুলনা হিসেবে উল্লেখ করেন। তাদের মতে, কাশ্মীরের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, ইতিহাস ও মানুষের গভীর যন্ত্রণাকে রাজনৈতিক স্বার্থে উপমা হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। সমালোচকরা বলছেন, কাশ্মীর এবং দিল্লির বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন, তাই কোনো রাজনৈতিক যুক্তি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে কাশ্মীরকে এভাবে ঢালাও উদাহরণ বানানো অনুচিত।