ডেইলি বাংলাগ্রাম

এইচএসসিতে শূন্য পাস: ২৯৩ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে না পারা ২৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

এইচএসসিতে শূন্য পাস: ২৯৩ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে না পারা ২৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইতোমধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া শুরু হয়েছে। সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে না পারলে এবং টানা একাধিকবার শতভাগ ফেল করলে এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের এমপিও বাতিল করা হতে পারে। পাশাপাশি অপরিকল্পিত প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ না করে পার্শ্ববর্তী কলেজের সঙ্গে যুক্ত বা একীভূত করার চিন্তাভাবনা করছে সরকার। শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠান একীভূত করা হলেও কোনো শিক্ষকের চাকরি যাবে না।

গত শনিবার প্রকাশিত ফলে দেখা যায়, এবার পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। এটি গত ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের রেকর্ড। এবার জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী, যা আগের বছরের চেয়ে ২৯ হাজার ১৩ জন কম। সামগ্রিক ফলাফলের অবনতির পাশাপাশি শতভাগ ফেল করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও গত বছরের তুলনায় ৯১টি বেড়ে ২৯৩টিতে পৌঁছেছে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামান জানান, এসব প্রতিষ্ঠানের কাছে গত পাঁচ বছরের তথ্য চাওয়া হয়েছে। নোটিশের জবাব পাওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে মন্ত্রণালয়ে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার সুপারিশ পাঠানো হবে।

তদন্তে দেখা গেছে, শতভাগ অনুত্তীর্ণ হওয়া অনেক প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো বা শিক্ষক থাকলেও নিয়মিত শিক্ষার্থী নেই। নওগাঁর পত্নীতলা সরকারি টেকনিক্যাল কলেজে ১৭ জন শিক্ষক থাকলেও পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১০ জনের কেউই পাস করেননি। একইভাবে নেত্রকোনার নন-এমপিওভুক্ত ভাষাসৈনিক আবুল হোসেন কলেজে টানা দুই বছর কোনো পরীক্ষার্থী পাস করতে পারেননি। এ ছাড়া গাইবান্ধার ফকিরহাট মহিলা কলেজে টানা তিন বছর সবাই ফেল করেছেন এবং জুমারবাড়ী মহিলা কলেজের একমাত্র পরীক্ষার্থীও উত্তীর্ণ হতে পারেননি। নিয়মিত পাঠদান না হওয়া এবং শিক্ষক সংকটের কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানরা।