ডেইলি বাংলাগ্রাম

রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব পরিবারকেন্দ্রিক ও ব্যক্তিনির্ভর: টিআইবির গবেষণা

আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টিসহ দেশের ১০টি রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব পরিবারকেন্দ্রিক।

রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব পরিবারকেন্দ্রিক ও ব্যক্তিনির্ভর: টিআইবির গবেষণা

আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টিসহ দেশের ১০টি রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব পরিবারকেন্দ্রিক। অধিকাংশ দলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াও ব্যক্তিনির্ভর হয়ে পড়েছে। সেখানে সাংগঠনিক অভিজ্ঞতার চেয়ে পরিবার, অর্থ ও তারকাখ্যাতিকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলের প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন’ শীর্ষক এক গবেষণায় এই চিত্র উঠে এসেছে। গত রোববার দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে সংস্থাটির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, দেশের ১২টি দলের শীর্ষ নেতা ১০ বছর বা তার বেশি সময় দায়িত্বে ছিলেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা সর্বোচ্চ ৪১ বছর নেতৃত্বে রয়েছেন। কেবল সিপিবি ছাড়া অন্য কোনো দলের গঠনতন্ত্রে দলীয় প্রধানের মেয়াদের কোনো সীমা নেই। ১৬টি দলে নিয়মিত কাউন্সিল হয় না এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে গোপন ব্যালট ছাড়াই কণ্ঠভোটে শীর্ষ পদ নির্ধারিত হয়। প্রার্থী বাছাইয়ে স্থানীয় প্রস্তাব উপেক্ষিত থাকে এবং বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিতে মনোনয়ন–বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া মাত্র দুটি দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী সদস্য রয়েছেন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় কমিটিতে কোনো নারী প্রতিনিধি নেই।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, রাজনৈতিক দলগুলোতে সুনির্দিষ্ট আর্থিক নীতিমালা, বাজেট ও কর্মীদের আচরণবিধির বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। ১৮টি দলের গঠনতন্ত্রে সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো নৈতিকতার শর্ত রাখা হয়নি। নতুন দলের নিবন্ধনে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের পাশাপাশি ৩৩ থেকে ৭৬ লাখ টাকা খরচের তথ্য পাওয়া গেছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে সুশাসন ফেরাতে টিআইবি কিছু সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করা, নেতৃত্বের মেয়াদের সীমা নির্দিষ্ট করা, গোপন ভোটে নেতা নির্বাচন এবং তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে মনোনয়ন চূড়ান্ত করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে অপরাধীদের প্রবেশ ঠেকানো ও আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশের ওপর জোর দেওয়া হয়।