লংমার্চে নেই নাহিদ: গোপালগঞ্জের ভয়, নাকি জামায়াতের সঙ্গে টানাপোড়েন?
জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের ঢাকা থেকে খুলনা-কুষ্টিয়া অভিমুখী লংমার্চে অংশ নেননি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তবে দলের প্রতিনিধিরা কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছেন। নাহিদের অনুপস্থিতির কারণ নিয়ে আলোচনা তৈরি হলেও গোপালগঞ্জের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কাই এর কারণ—এমন তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের ঢাকা থেকে খুলনা-কুষ্টিয়া অভিমুখী লংমার্চে অংশ নেননি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তবে দলের প্রতিনিধিরা কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছেন। নাহিদের অনুপস্থিতির কারণ নিয়ে আলোচনা তৈরি হলেও গোপালগঞ্জের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কাই এর কারণ—এমন তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সিটি নির্বাচনে ছাড় নিয়ে টানাপোড়েন
শনিবার, ৩১ অক্টোবর শুরু হওয়া এই লংমার্চে নাহিদের অনুপস্থিতির পেছনে জামায়াতের সঙ্গে রাজনৈতিক মতবিরোধের কথা উঠে এসেছে। বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনসিপি নেতাদের বরাতে বলা হয়েছে, সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ছাড় দেওয়া নিয়ে দুই দলের মধ্যে টানাপোড়েন চলছে। এনসিপি ঢাকার দুই সিটির অন্তত একটিতে ছাড় চাইলেও জামায়াত তাতে রাজি হয়নি বলে ওই সূত্রগুলোর দাবি।
একই প্রতিবেদনে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে জামায়াতের অবস্থানে এনসিপির অসন্তোষের কথাও বলা হয়েছে। তবে এসব বিষয় নাহিদের অনুপস্থিতির কারণ কি না, সে বিষয়ে তাঁর নিজের সরাসরি বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্বতন্ত্র পরিচয় ধরে রাখার চেষ্টা
অন্যদিকে, জোটে থেকেও পৃথক রাজনৈতিক দল হিসেবে নিজেদের স্বতন্ত্র পরিচয় প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে এনসিপি। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে দলীয় সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, এবারের লংমার্চে কয়েকজন প্রতিনিধির মাধ্যমে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। লংমার্চের আগের দিন ঢাকার শাহবাগে পৃথক গণবিক্ষোভও করেছে এনসিপি।
গোপালগঞ্জের আশঙ্কা নাকচ এনসিপির
গোপালগঞ্জের প্রসঙ্গ সামনে এসেছে গত বছরের জুলাইয়ে সেখানে এনসিপির কর্মসূচিতে হামলার ঘটনার কারণে। এবারের লংমার্চের বহরও গোপালগঞ্জের ওপর দিয়ে যাওয়ার কথা। তবে এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, দল হিসেবে তাঁরা লংমার্চে অংশ নিচ্ছেন। গোপালগঞ্জে হামলার আশঙ্কার তথ্যও তিনি নাকচ করেছেন।
ফলে নাহিদের অনুপস্থিতিকে সরাসরি ‘গোপালগঞ্জের ভয়’ হিসেবে ব্যাখ্যা করার প্রমাণ মেলেনি। প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে বরং জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতা নিয়ে মতভেদ এবং এনসিপির স্বতন্ত্র রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টার বিষয়টিই সামনে এসেছে। অনুপস্থিতির কারণ নিয়ে নাহিদের সরাসরি ব্যাখ্যা পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।