ডেইলি বাংলাগ্রাম

জামায়াতের ‘গোপালগঞ্জ জয়’

বিএনপি–এনসিপির কর্মসূচিতে হামলার স্মৃতি ছাপিয়ে এবার ভাটিয়াপাড়ায় জামায়াত আমিরের পথসভা; হাজার হাজার মানুষের অভ্যর্থনার কথা জানিয়েছে দলটি।

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীর ভাটিয়াপাড়া গোলচত্বরে জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোটের লংমার্চের পথসভা
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীর ভাটিয়াপাড়া গোলচত্বরে জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোটের লংমার্চের পথসভা

আগে ঘোষণা ছিল, গোপালগঞ্জে কোনো পথসভা হবে না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেখানেই থামল জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোটের লংমার্চ। শনিবার, ৩১ অক্টোবর গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার ভাটিয়াপাড়া গোলচত্বরে উপস্থিত মানুষের উদ্দেশে বক্তব্য দিলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। চ্যানেল আইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেলা পৌনে ১২টার দিকে এ পথসভা হয়। জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বহর পৌঁছালে হাজার হাজার নারী–পুরুষ তাঁদের স্বাগত জানান।

এই উপস্থিতি বিশেষ তাৎপর্য পাচ্ছে গোপালগঞ্জে অন্য রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিতে অতীতের হামলা ও বাধার প্রেক্ষাপটে।

এনসিপি ও বিএনপির কর্মসূচিতে হামলার স্মৃতি

২০২৫ সালের ১৬ জুলাই এনসিপির কর্মসূচি ঘিরে গাছ কেটে সড়ক আটকে দেওয়া হয়। গোপালগঞ্জ শহরের পৌরপার্কে দলটির সমাবেশমঞ্চেও হামলা, ভাঙচুর ও বোমাবাজি হয়। এনসিপির অভিযোগ ছিল, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীরা এসব হামলা চালিয়েছেন। তবে বাধার পরও কেন্দ্রীয় নেতারা সমাবেশস্থলে পৌঁছে কর্মসূচি করেন।

২০২৫ সালের ১৬ জুলাই গোপালগঞ্জ পৌরপার্কে এনসিপির সমাবেশমঞ্চে হামলা (ফাইল ছবি)

এর আগে, ২০২৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জের ঘোনাপাড়ায় স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানীর গাড়িবহরে হামলা হয়। নিহত হন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় ক্রীড়া সম্পাদক শওকত আলী দিদার। আহত হন জিলানীসহ অনেকে। বিএনপির নেতারা ওই হামলার জন্য স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীদের দায়ী করেন।

‘পথসভা হবে না’ ঘোষণার পরও পথসভা

সেই জেলার ভাটিয়াপাড়ায় এবার দেখা গেল লংমার্চকে স্বাগত জানানোর জমায়েত। অথচ ২৯ অক্টোবর জেলা জামায়াতের আমির জানিয়েছিলেন, গোপালগঞ্জে পূর্বনির্ধারিত কোনো পথসভা হবে না; বহর শুধু মহাসড়ক ব্যবহার করবে। শেষ পর্যন্ত সেই ঘোষণার পরও পথসভা হলো। সেখানে শফিকুর রহমান সাত দফা দাবি আদায়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেন এবং গোপালগঞ্জবাসীর সমর্থন প্রত্যাশা করেন।

গোপালগঞ্জের মানুষের সামগ্রিক রাজনৈতিক অবস্থান একটি জমায়েত দিয়ে নির্ধারণ করা যায় না। তবে অতীতের হামলা–বাধার প্রেক্ষাপটে ভাটিয়াপাড়ায় এই পথসভা জামায়াতের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক উপস্থিতি।