চীন সীমান্তে বাঁধ নির্মাণের প্রতিবাদে অরুণাচলে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন
চীন সীমান্তবর্তী অরুণাচল প্রদেশে প্রস্তাবিত একটি বিশাল জলবিদ্যুৎ প্রকল্পকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভের মুখে শত শত অতিরিক্ত নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করেছে ভারত সরকার।
চীন সীমান্তবর্তী অরুণাচল প্রদেশে প্রস্তাবিত একটি বিশাল জলবিদ্যুৎ প্রকল্পকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভের মুখে শত শত অতিরিক্ত নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করেছে ভারত সরকার। তিব্বত সীমান্তবর্তী সিয়াং উপত্যকায় এই বাঁধ নির্মাণের বিরোধিতায় স্থানীয়দের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। উজানে চীনের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রভাব মোকাবিলায় ভারত সেখানে এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে।
গত সপ্তাহে সিয়াং উপত্যকায় বিক্ষোভকারীরা পুলিশের ওপর পাথর নিক্ষেপ করে এবং একটি থানা ও রাষ্ট্রায়ত্ত ন্যাশনাল হাইড্রোইলেকট্রিক পাওয়ার কর্পোরেশনের কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। এই বিক্ষোভে মূলত আদিবাসী ‘আদি’ সম্প্রদায়ের মানুষ অংশ নিচ্ছেন। তাঁদের আশঙ্কা, বাঁধটি তৈরি হলে তাঁদের পূর্বপুরুষের ভিটেমাটি এবং গ্রামগুলো সম্পূর্ণভাবে পানির নিচে তলিয়ে যাবে।
প্রস্তাবিত ১১ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের ‘সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস প্রজেক্ট’ নামের প্রকল্পটি ন্যাশনাল হাইড্রোইলেকট্রিক পাওয়ার কর্পোরেশনের নির্মাণ করার কথা রয়েছে। তিব্বত থেকে নেমে আসা ইয়ারলুং সাংপো নদীটি অরুণাচলে সিয়াং নামে প্রবেশ করেছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে নদীর উজানে বিশ্বের বৃহত্তম বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা ঘোষণা করে চীন, যাকে অস্তিত্বের সংকট হিসেবে দেখছে অরুণাচল রাজ্য সরকার। চীন অরুণাচলকে ‘জাংনান’ বা দক্ষিণ তিব্বতের অংশ মনে করে, অন্যদিকে ভারত অঞ্চলটিকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে দাবি করে আসছে।