দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি অনুপ্রবেশ ও বাড়ি তল্লাশি, নতুন আগ্রাসনের আশঙ্কা
দক্ষিণ-পূর্ব লেবাননের আরকুব সীমান্ত অঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনীর দফায় দফায় অনুপ্রবেশের কারণে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে ভূখণ্ড হারানোর আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
দক্ষিণ-পূর্ব লেবাননের আরকুব সীমান্ত অঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনীর দফায় দফায় অনুপ্রবেশের কারণে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে ভূখণ্ড হারানোর আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। সিরিয়া ও ইসরায়েল সীমান্তবর্তী জাবাল আল-শেখের পশ্চিম ঢালে অবস্থিত কাফর শুবা, শেবা, হাব্বারিয়া এবং হালতা এলাকায় ইসরায়েলি সেনারা রাস্তা পরিষ্কার করছে ও এলাকার ভৌগোলিক রূপ পরিবর্তন করছে। সম্প্রতি কাফর শুবায় বাড়িঘর তল্লাশির পর স্থানীয় একটি কমিটি অতীতের মতো শেবা ফার্মস ও কাফর শুবা পাহাড়ের মতো অঞ্চলগুলো আবারও বেদখল হওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছে। এই অনুপ্রবেশ ও আগ্রাসন বন্ধে তারা দ্রুত আরব লিগ, জাতিসংঘ এবং নিরাপত্তা পরিষদের হস্তক্ষেপ দাবি করেছে।
সীমান্তবর্তী অবরুদ্ধ নয় এমন এলাকা এবং তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’ সংলগ্ন গ্রামগুলোতে কয়েক মাস ধরেই ইসরায়েলি বাহিনীর এ ধরনের তৎপরতা চলছে। ২০২৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি কাফর শুবা গ্রামে তাদের টহল দিতে দেখা যায়। অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল খলিল জেমায়েল জানান, এই অভিযানের উদ্দেশ্য কেবল হিজবুল্লাহর অস্ত্র খোঁজা নয়। বরং ইসরায়েল বাড়িঘরের ভেতর ঢুকে তথ্য সংগ্রহ করছে এবং হিজবুল্লাহ যেন ঘাঁটি গড়তে না পারে সেজন্য প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংস করছে। তিনি আরও বলেন, ইসরায়েল এখন আর কেবল পাহাড়ের স্থায়ী চৌকিতে সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না, বরং নিজেদের সুরক্ষায় একটি মধ্যবর্তী অঞ্চল তৈরি করতে চাইছে। এর ফলে কাফর শুবা ও হালতার কৃষক এবং রাখালরা নিজেদের জমি ও চারণভূমিতে যেতে পারছেন না।
অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জর্জ নাদেরের মতে, সীমান্ত গ্রামে এই ধারাবাহিক অভিযান লেবাননের ভূখণ্ডে ইসরায়েলি সামরিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার একটি বড় চক্রান্ত। তিনি জানান, এগুলো কোনো আকস্মিক তৎপরতা নয়। ইসরায়েল তাদের নির্বাচনের পর রাজনৈতিক সুবিধা আদায় অথবা লিতানি নদীর ওপারে সামরিক অভিযান আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যেই লেবাননের ভূখণ্ডে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পাঁয়তারা করছে।