ডেইলি বাংলাগ্রাম

ইরানে আগ্রাসন ও সরকার পতনের পরিণতি নিয়ে পশ্চিমকে হুঁশিয়ারি

ইরানের ওপর যেকোনো সামরিক আগ্রাসন অথবা দেশটির বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতন ঘটলে তা পশ্চিমা বিশ্বের জন্য ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

ইরানে আগ্রাসন ও সরকার পতনের পরিণতি নিয়ে পশ্চিমকে হুঁশিয়ারি

ইরানের ওপর যেকোনো সামরিক আগ্রাসন অথবা দেশটির বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতন ঘটলে তা পশ্চিমা বিশ্বের জন্য ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনবে বলে সতর্ক করা হয়েছে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সম্ভাব্য পদক্ষেপের সমালোচনা করে এক নিবন্ধে বিশ্লেষক জানান, এমন সংঘাত শুরু হলে অন্তত সাড়ে তিন কোটি ইরানি স্বেচ্ছাসেবী দখলদারদের বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধে অংশ নেবে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বজুড়ে দীর্ঘমেয়াদি ও নজিরবিহীন সংকট তৈরি হবে।

নিবন্ধটিতে মার্কিন তাত্ত্বিক নোয়াম চমস্কির প্রতিক্রিয়া স্মরণ করে বলা হয়, ইরানের পতন হলে দেশটির জাতীয় রাজস্ব ইরাকের মতো মার্কিন ব্যাংকে চলে যাবে এবং আরও কঠোর বিপ্লবীরা পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনে উদ্যোগী হবে। এছাড়া হরমুজ প্রণালী বন্ধ এবং হুথি হামলার পাশাপাশি সৌদি আরামকো, ইসরায়েলের পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্র ও সমুদ্রের ইন্টারনেট কেবলের মতো অবকাঠামো ধ্বংসের মুখে পড়বে। পূর্বে ইরানি আলোচক সাঈদ জালিলি ইউরোপীয় ইউনিয়নের ক্যাথরিন অ্যাশটনকে যেমন সতর্ক করেছিলেন, তেলের দাম সামান্য বাড়লেই ইউরোপে বড় ধরনের অস্থিরতা ও পশ্চিমের দিকে লাখ লাখ শরণার্থীর ঢল নামবে।

বিশ্লেষণে আরও উল্লেখ করা হয়, ইরাকের আরবাঈন তীর্থযাত্রায় অংশ নেওয়া প্রায় এক কোটি ইরানি ও অন্যান্য দেশের নাগরিকদের মধ্যে পশ্চিমবিরোধী অভূতপূর্ব সংহতি গড়ে উঠবে। যুদ্ধকৌশলী সান জুর সূত্রের উদাহরণ টেনে লেখক বলেন, নিজেদের রক্ষায় শিয়া যোদ্ধারা জীবন উৎসর্গ করতে দ্বিধা করে না। তাই ট্রাম্প আক্রমণ বা সমঝোতা যে পথই বেছে নিন না কেন, এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মর্যাদার বড় ধরনের পতন নিশ্চিত।