নেত্রকোনায় সীমান্ত অপরাধের তথ্য ফাঁসের জেরে সাংবাদিক আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যা
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে (৪৪) গুলি করে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা।
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে (৪৪) গুলি করে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। ১৫ অক্টোবর রাত সাড়ে আটটার দিকে বিরিশিরি ইউনিয়নের তেলুনঞ্জিয়া গ্রামে তাঁর শ্বশুরবাড়ির কাছের একটি দোকানের সামনে এই ঘটনা ঘটে। দুর্বৃত্তরা তাঁকে লক্ষ্য করে মাথা, গলা ও বুকে ছয়টি গুলি চালায়। অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য আলিফ আইপি টিভি চ্যানেল রূপসী বাংলার প্রতিনিধি ছিলেন। পাশাপাশি তিনি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামের ফেসবুক পেজে ভারত সীমান্তবর্তী এলাকার মাদক, চোরাচালান ও অস্ত্র কারবার নিয়ে নিয়মিত তথ্য প্রকাশ করতেন।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আলিফের স্ত্রী খাদিজা আক্তার অজ্ঞাতপরিচয় সাত-আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে সাজিবুল ইসলাম ওরফে অপূর্ব ও মো. আশিকুর রহমান ওরফে প্রাঙ্গণ নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তদন্তে জানা গেছে, এলাকার অপরাধ চক্রের হোতা তাজুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করেন এবং শামীম আহমেদ ওরফে ‘শুটার শামীম’ এতে অর্থ জোগান দেন। তাজুলের বিরুদ্ধে ১৩টি এবং শামীমের বিরুদ্ধে অন্তত ২৫টি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। হত্যাকাণ্ডে ৯ মিলিমিটারের গুলি ব্যবহার করা হয়েছে এবং ঘটনাস্থলে সাত থেকে আটজন সন্ত্রাসী অংশ নেয়।
সীমান্তের অপরাধ নিয়ে ধারাবাহিক অনুসন্ধানের কারণে আলিফ আগেও দুই দফা হত্যাচেষ্টার শিকার হয়েছিলেন। ২০২৫ সালের ৯ জানুয়ারি তাঁকে মারতে গিয়ে সন্ত্রাসীরা ভুলবশত দুর্গাপুরে পুলিশের এক উপপরিদর্শককে কুপিয়ে হত্যা করে। একই বছরের ১০ নভেম্বর সোমেশ্বরী নদী এলাকায় আলিফকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছিল। বারবার প্রাণনাশের হুমকি পেয়ে তিনি নিরাপত্তাহীনতার কথা জেলা পুলিশকেও জানিয়েছিলেন। বর্তমানে মূল সন্দেহভাজন তাজুল ও শামীম আত্মগোপনে রয়েছেন। তাঁদের ধরতে অভিযান চলছে এবং আলিফের মুঠোফোনটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য সিআইডিতে পাঠানো হয়েছে।