ডেইলি বাংলাগ্রাম

নির্বাচন পর্যন্ত গাজার প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা পরিকল্পনা স্থগিত করলেন নেতানিয়াহু

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গাজা উপত্যকার ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন পদক্ষেপ আগামী ২৭ অক্টোবরের জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত স্থগিত করেছেন।

নির্বাচন পর্যন্ত গাজার প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা পরিকল্পনা স্থগিত করলেন নেতানিয়াহু

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গাজা উপত্যকার ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন পদক্ষেপ আগামী ২৭ অক্টোবরের জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত স্থগিত করেছেন। এর ফলে গাজায় আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা বাহিনী মোতায়েন এবং এলাকাটি পরিচালনার জন্য একটি জাতীয় প্রশাসনিক কমিটি পাঠানোর প্রক্রিয়া পিছিয়ে গেল। এছাড়া পুলিশের প্রশিক্ষণের জন্য গাজা থেকে প্রায় ৭ হাজার ফিলিস্তিনির মিসর সফরের কথা থাকলেও নেতানিয়াহুর নির্দেশে তা আটকে দেওয়া হয়েছে। দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেত এই প্রশিক্ষণে অংশ নিতে যাওয়া ৫ হাজার থেকে ৭ হাজার ফিলিস্তিনির বিষয়ে নিরাপত্তা ছাড়পত্র দেওয়া সত্ত্বেও এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।

বিলম্বিত পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রাফাহ অঞ্চলে নতুন একটি শহর নির্মাণের প্রস্তুতিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক নেতৃত্বের পক্ষ থেকে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ধাপে ধাপে এসব উদ্যোগ স্থগিত রাখার নির্দেশনা আসে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো মনে করছে, নির্বাচনের আগে গাজার পুনর্গঠন বা ফিলিস্তিনি পুলিশকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার বিষয়টি নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক স্বার্থের অনুকূলে নাও যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’ প্রস্তাবিত যুদ্ধ অবসানের পরিকল্পনায় একজন মার্কিন জেনারেলের নেতৃত্বে বহুজাতিক বাহিনী মোতায়েন এবং জাতীয় কমিটির কাছে গাজার দায়িত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। হামাস এই রূপরেখা মেনে নিলেও নেতানিয়াহু গত আগস্টে তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং যেকোনো সেনা প্রত্যাহারের আগেই হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের শর্ত জুড়ে দেন।

এদিকে ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ১ হাজার ৫৫১ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৫ হাজার ৫৭৩ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলা ইসরায়েলের এই সর্বাত্মক হামলায় এখন পর্যন্ত ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি মানুষ। এই দীর্ঘ মেয়াদী যুদ্ধে উপত্যকাটির প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।