ডেইলি বাংলাগ্রাম

নেতানিয়াহুকে ঠেকাতে ইসরায়েলের নির্বাচনে আরব ভোটারদের অংশ নেওয়ার তোড়জোড়

ইসরায়েলের আসন্ন পার্লামেন্ট নির্বাচনে কট্টরপন্থী সরকার রুখতে এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পুনরায় ক্ষমতায় আসা ঠেকাতে দেশটির ফিলিস্তিনি আরব নাগরিকদের মধ্যে ভোট দেওয়ার তৎপরতা বাড়ছে।

নেতানিয়াহুকে ঠেকাতে ইসরায়েলের নির্বাচনে আরব ভোটারদের অংশ নেওয়ার তোড়জোড়

ইসরায়েলের আসন্ন পার্লামেন্ট নির্বাচনে কট্টরপন্থী সরকার রুখতে এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পুনরায় ক্ষমতায় আসা ঠেকাতে দেশটির ফিলিস্তিনি আরব নাগরিকদের মধ্যে ভোট দেওয়ার তৎপরতা বাড়ছে। আগামী ২৭ অক্টোবর মঙ্গলবার নেসেটের ১২০টি আসনে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বিভিন্ন জরিপ ও বিশেষজ্ঞদের মতে, এবার আরব নাগরিকদের ভোটাধিকার প্রয়োগের হার বিগত ২০২২ সালের ৫৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬০ থেকে ৬১ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। আরব ভোটারদের উপস্থিতি বৃদ্ধি পেলে পার্লামেন্টে তাদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো অন্তত ১৫টি আসন নিশ্চিত করতে পারে, যা মূলত নেতানিয়াহুকে সমর্থনকারী ডানপন্থী দলগুলোর জয় কঠিন করে তুলবে।

ইসরায়েলের মোট এক কোটির বেশি জনসংখ্যার মধ্যে আরব জনগোষ্ঠীর হার প্রায় ২০ শতাংশ। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে তীব্র হওয়া বৈষম্য ও সরকারি দমনপীড়নের পটভূমিতে অনেক ভোটার এবার ব্যালটের মাধ্যমে বদল আনতে চান। স্থানীয় বাসিন্দা ইমাদ বাশশাক, আরিন গানাইয়েম ও মোহাম্মদ আহমদ আব্বুদের মতো নাগরিকেরা মনে করেন, বর্ণবাদী শাসনব্যবস্থা হটাতে এবং অধিকার ফিরে পেতে ভোট দেওয়া ছাড়া উপায় নেই। একই সাথে দখলকৃত পশ্চিম তীরে সহিংসতা এবং নেগেভ ও গ্যালিলি অঞ্চলে ইহুদিকরণের বক্তব্যের বিষয়েও তারা উদ্বেগ জানান। তবে আক্রের বাসিন্দা সাঈদ আবু সুলতানের মতো কিছু নাগরিক ভোট দেওয়ার বিষয়ে এখনো সন্দিহান। তাদের মতে, বিগত ৩০ বছরে দফায় দফায় সরকার বদল হলেও তাদের ভাগ্যের কোনো বাস্তব পরিবর্তন আসেনি।

আসন্ন লড়াইয়ে ইউসুফ জাবারিনের নেতৃত্বাধীন ‘জয়েন্ট লিস্ট’ প্রায় নয়টি এবং মনসুর আব্বাসের ‘ইউনাইটেড আরব লিস্ট’ পাঁচ থেকে ছয়টি আসন পেতে পারে বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ইসরায়েলে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ সদস্যের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী দল বা নেতানিয়াহুর দল—উভয় পক্ষই এখন পর্যন্ত আরবদের সঙ্গে সরাসরি জোট করতে অনাগ্রহী। অন্যদিকে, আরব আইনপ্রণেতারা কোনো সরকারকে সমর্থনের ক্ষেত্রে যুদ্ধ বন্ধ, ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার অগ্রগতি এবং ইসরায়েলি আরবে বৈষম্য বিলোপের পূর্বশর্ত জুড়ে দিয়েছেন।