ডেইলি বাংলাগ্রাম

ঢাকায় ৫৪৫ চাঁদাবাজের তালিকা তৈরি, আইনি জটিলতায় অভিযানে ধীরগতি

গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে রাজধানীতে সক্রিয় ৫৪৫ জন সন্দেহভাজন চাঁদাবাজের একটি নতুন তালিকা তৈরি করেছে সরকার।

ঢাকায় ৫৪৫ চাঁদাবাজের তালিকা তৈরি, আইনি জটিলতায় অভিযানে ধীরগতি

গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে রাজধানীতে সক্রিয় ৫৪৫ জন সন্দেহভাজন চাঁদাবাজের একটি নতুন তালিকা তৈরি করেছে সরকার। সম্প্রতি চাঁদাবাজি ও জমি দখলের বেশ কয়েকটি ঘটনার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে এই তালিকা তৈরি করা হয়। তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঢাকা মহানগর পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে গ্রেপ্তারের পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা না থাকায় পুলিশ এখনো পুরোদমে অভিযান শুরু করতে পারেনি। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের অনেকের রাজনৈতিক প্রভাব থাকায় মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে দ্বিধাদ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে।

তালিকা অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি চাঁদাবাজ রয়েছে তেজগাঁও বিভাগে, যার সংখ্যা ১৫৫ জন। এছাড়া গুলশানে ৮৫, উত্তরায় ৭২, লালবাগে ৭১, মিরপুরে ৬৬, রমনায় ৫০, ওয়ারীতে ২৪ এবং মতিঝিলে ২২ জন রয়েছে। তালিকার ২১৫ জনের পরিচয় নিশ্চিত করা গেছে। এদের মধ্যে অন্তত ৭৫ জন বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। বাকিদের মধ্যে ১৩৪ জনের রাজনৈতিক পরিচয় মেলেনি, দুইজন আওয়ামী লীগের এবং দুইজন সাবেক পুলিশ সদস্য। গত ৮ অক্টোবর পর্যন্ত তালিকাভুক্ত ৪১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নেতা মিজানুর রহমান স্বপনও রয়েছেন, যিনি গ্রেপ্তারের পরদিনই আদালত থেকে জামিন পান।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও স্পষ্ট নির্দেশনা ছাড়া শুধু তালিকার ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করলে আইনি জটিলতা তৈরি হচ্ছে এবং অভিযুক্তরা দ্রুত ছাড়া পেয়ে যাচ্ছেন। এ বিষয়ে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, অপরাধীদের গ্রেপ্তারে দল বা সরকারের কোনো বাধা নেই এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। অন্যদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ জানান, অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে যৌথ অভিযান শুরু হয়েছে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।