লেবাননে দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ ও ২০ বছরের এলএনজি চুক্তির প্রস্তাব কাতারের
লেবাননের সংকটগ্রস্ত বিদ্যুৎ খাত পুনরুজ্জীবিত করতে দেশটিতে দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ এবং ২০ বছর মেয়াদি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের পরিকল্পনা করেছে কাতার।
লেবাননের সংকটগ্রস্ত বিদ্যুৎ খাত পুনরুজ্জীবিত করতে দেশটিতে দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ এবং ২০ বছর মেয়াদি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের পরিকল্পনা করেছে কাতার। 'ন্যাশনাল ইন্টিগ্রেটেড এনার্জি ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম' নামের একটি প্রস্তাবের আওতায় আগামী তিন বছরে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। এর অধীনে উত্তর লেবাননের দেইর আম্মার এবং দক্ষিণাঞ্চলের জাহরানীতে ৮২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি কম্বাইন্ড-সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। তবে পুরো পরিকল্পনাটি এখনো চূড়ান্ত নয় এবং বাস্তবায়নের জন্য দুই দেশের সরকারের অনুমোদনের প্রয়োজন রয়েছে।
এই প্রস্তাবে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ছাড়াও এলএনজি সরবরাহ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ব্যাটারি স্টোরেজ এবং আঞ্চলিক গ্রিড সংযোগের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে ৮০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ, ৪৪০ মেগাওয়াট বায়ুবিদ্যুৎ এবং সিরিয়া হয়ে দুটি ভিন্ন পথে শুরুতে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় 'কাতারএনার্জি' দিনে ৩৫ লাখ ঘনমিটার সক্ষমতার ভাসমান টার্মিনাল এবং সিরিয়া হয়ে দৈনিক ৪৫ লাখ ঘনমিটার ক্ষমতাসম্পন্ন 'আরব গ্যাস পাইপলাইন'-এর মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ করবে। লেবাননের রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে সরাসরি কোনো অর্থ খরচ না করে বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে এই প্রকল্প অর্থায়নের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
গত সপ্তাহে লেবানন সফরকালে কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল-থানি দেশটির বিদ্যুৎ খাত পুনর্গঠনে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন। ১৯৭৫ থেকে ১৯৯০ সালের গৃহযুদ্ধের পর থেকে চরম সংকটে থাকা লেবাননের জাতীয় ঋণের বড় কারণ এই বিদ্যুৎ খাত। বর্তমানে রাষ্ট্রীয় কোম্পানি দিনে মাত্র কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ দিতে পারে, ফলে মানুষ ব্যয়বহুল ও দূষণকারী ডিজেল জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছে। রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণে এর আগের সংস্কার উদ্যোগগুলো ব্যর্থ হয়েছিল। এছাড়া প্রতিবেশী সিরিয়াতেও কাতারের প্রতিষ্ঠান 'পাওয়ার ইন্টারন্যাশনাল হোল্ডিং' ৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের চুক্তি পেয়েছে।