ডেইলি বাংলাগ্রাম

মণিপুরে গ্রামে হামলার প্রতিবাদে ২০২ নম্বর জাতীয় সড়কে চার দিন অবরোধের ডাক

ভারতের মণিপুরে অব্যাহত সহিংসতার প্রতিবাদে ২০২ নম্বর জাতীয় সড়কে চার দিনের 'সর্বাত্মক ধর্মঘট' বা অবরোধের ডাক দিয়েছে কুকি নাগরিক সমাজ।

মণিপুরে গ্রামে হামলার প্রতিবাদে ২০২ নম্বর জাতীয় সড়কে চার দিন অবরোধের ডাক

ভারতের মণিপুরে অব্যাহত সহিংসতার প্রতিবাদে ২০২ নম্বর জাতীয় সড়কে চার দিনের 'সর্বাত্মক ধর্মঘট' বা অবরোধের ডাক দিয়েছে কুকি নাগরিক সমাজ। ওয়ার্কিং কমিটি অব কুকি সিভিল সোসাইটি অর্গানাইজেশনস (ডব্লিউসিকেসিএসও) নামের মোর্চা এই কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। কামজং জেলায় ভারত-মিয়ানমার সীমান্তের কাছে বেশ কয়েকটি গ্রামে দফায় দফায় হামলার পর তারা এই সিদ্ধান্ত নেয়। আগামী ১৮ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার মধ্যরাত থেকে ২২ অক্টোবর ২০২৬, বৃহস্পতিবার মধ্যরাত পর্যন্ত এই অবরোধ চলবে। এলাকায় বিশ্বাসযোগ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাব রয়েছে উল্লেখ করে সংগঠনটি এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে।

ডব্লিউসিকেসিএসও এক বিবৃতিতে মণিপুর ও কেন্দ্রীয় সরকারকে ফাঁকা আশ্বাস বাদ দিয়ে মাঠে নেমে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তারা কোনো সম্প্রদায়ের সাধারণ মানুষকে হয়রানি না করে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কেবল সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের নিশানা করার দাবি তোলে। ইম্ফল-উখরুল সড়ক নামে পরিচিত এই ২০২ নম্বর জাতীয় সড়কটি মণিপুরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিকল্প পথ। ২০২৩ সালের মে মাসে জাতিগত দাঙ্গা শুরুর পর সড়কটি বন্ধ ছিল এবং পরে আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহে তা আবার চালু করা হয়। কুকি সংগঠনটির অভিযোগ, নাগা চরমপন্থী সংগঠন এনএসসিএন (আইএম) তাদের গ্রামে আক্রমণ চালাচ্ছে। অন্যদিকে, নাগা সংগঠনগুলোর পাল্টা দাবি, মিয়ানমারভিত্তিক কুকি ন্যাশনাল আর্মি-বার্মাসহ বিভিন্ন কুকি সশস্ত্র গোষ্ঠী তাদের গ্রামে হামলা চালাচ্ছে।

২০২৬ সালের শুরু থেকেই নাগা ও কুকি জনগোষ্ঠীর মধ্যে দ্বন্দ্ব নতুন করে চরম রূপ নিয়েছে। অপহরণ ও অবরোধের পাশাপাশি চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত দুই পক্ষের সংঘাতে ৪০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এদিকে তিন বছরের বেশি সময় ধরে চলা মূল কুকি-মেইতেই সংঘাতে প্রাণহানির সংখ্যা ইতিমধ্যে ৩০০ জনে পৌঁছেছে। সংঘাত থামাতে ব্যর্থ হওয়ায় ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। এন. বীরেন সিংয়ের সরকার, রাষ্ট্রপতি শাসন এবং বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই. খেমচান্দ সিংয়ের মেয়াদ পার হলেও মণিপুরে স্বাভাবিক অবস্থা ফেরানোর প্রতিশ্রুতি এখনো অধরাই রয়ে গেছে।