কানাডা থেকে বিচ্ছেদের প্রশ্নে তেলসমৃদ্ধ অ্যালবার্টায় গণভোট
কানাডা থেকে আলাদা হওয়ার পথে এগোনো হবে কি না, তা নিয়ে সোমবার ভোটাভুটিতে অংশ নিচ্ছেন তেলসমৃদ্ধ প্রদেশ অ্যালবার্টার বাসিন্দারা।
কানাডা থেকে আলাদা হওয়ার পথে এগোনো হবে কি না, তা নিয়ে সোমবার ভোটাভুটিতে অংশ নিচ্ছেন তেলসমৃদ্ধ প্রদেশ অ্যালবার্টার বাসিন্দারা। এতে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা জয়ী হলে দেশটিতে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য সংঘাতের এই সময়ে এ ধরনের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে তিনি প্রদেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তবে জনমত জরিপ অনুযায়ী, প্রদেশটির এক-চতুর্থাংশেরও কম মানুষ স্বাধীনতার পক্ষে রয়েছেন।
বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম তেলের মজুত রয়েছে অ্যালবার্টায়। কেন্দ্রীয় সরকারের তেল নীতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ছিল। প্রদেশটির প্রিমিয়ার ড্যানিয়েল স্মিথ জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর তেলবিরোধী অবস্থানের কারণেই ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। চলমান বিভেদের স্থায়ী সমাধান করতেই এই ভোটাভুটি আহ্বান করেছেন তিনি। স্মিথের ঘোষণা অনুযায়ী, ভোটাররা বিচ্ছেদের পক্ষে রায় দিলে পরবর্তীতে বাধ্যতামূলক গণভোটের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আর ফেডারেল সরকারের পক্ষে রায় এলে বিচ্ছিন্নতার দাবি পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করা হবে।
এই ভোটাভুটিতে অভিবাসনসহ মোট ১০টি প্রশ্ন রাখা হলেও সবার নজর ১০ নম্বর প্রশ্নে। সেখানেই কানাডায় থাকা বা আলাদা হওয়ার বিষয়ে মতামত চাওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার ভোরের মধ্যে এই ভোটের ফলাফল প্রকাশের কথা রয়েছে। এদিকে ব্রেক্সিট পরবর্তী অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের উদাহরণ টেনে সতর্ক করেছেন ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের সাবেক প্রধান মার্ক কার্নি। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কিছু ব্যক্তিত্বের মন্তব্যকে ঘিরে নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপের বিষয়েও কথা উঠেছে। এতে কোনো পক্ষই হয়তো ফলাফল সহজে মেনে নেবে না বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।