ডেইলি বাংলাগ্রাম

পাকিস্তানে ডেটা সেন্টারের বিস্তার: পানির ব্যবহার ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ

পাকিস্তানে বড় আকারের ডেটা সেন্টার নির্মাণের পরিকল্পনার সঙ্গে পানির ব্যবহারের বিষয়টি নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

পাকিস্তানে ডেটা সেন্টারের বিস্তার: পানির ব্যবহার ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ

পাকিস্তানে বড় আকারের ডেটা সেন্টার নির্মাণের পরিকল্পনার সঙ্গে পানির ব্যবহারের বিষয়টি নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। জাতীয় পরিসংখ্যানে ডেটা সেন্টারের পানির চাহিদা তুলনামূলকভাবে কম হলেও স্থানীয় পর্যায়ে এটি বড় ধরনের সংকট তৈরি করতে পারে। একটি ১ গিগাওয়াট ক্ষমতার সার্বক্ষণিক ডেটা সেন্টারে বছরে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ ঘনমিটার পানি প্রয়োজন হতে পারে। এই পরিমাণ সিন্ধু নদের বার্ষিক মোট পানি প্রবাহের মাত্র শূন্য দশমিক শূন্য এক শতাংশ। তবে স্থানীয় একটি উৎস থেকে দৈনিক প্রায় ১ কোটি গ্যালন পানি টেনে নিলে নিকটবর্তী জনপদে তীব্র পানির সংকট দেখা দেয়। করাচিতে নতুন পাইপলাইনের মাধ্যমে পাওয়া পানির পরিমাণের সঙ্গে এই চাহিদার মিল রয়েছে।

জাতিসংঘ বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যমতে, ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে ডেটা সেন্টারগুলোর পানির ব্যবহার প্রায় ১৩০ কোটি মানুষের মৌলিক চাহিদার সমান হবে। পাকিস্তানে ১৯৪৭ সালে মাথাপিছু পানির প্রাপ্যতা যেখানে ৫ হাজার ৬০০ ঘনমিটার ছিল, ২০২৩ সালে তা কমে ৯৩০ ঘনমিটারে ঠেকেছে। তবে দেশটির মূল পানির অপচয় ঘটে কৃষিখাতে। মোট পানির ৯৩ শতাংশের বেশি কৃষিতে ব্যয় হয় এবং পরিবহন ব্যবস্থার দুর্বলতায় এর ৬০ শতাংশের বেশি নষ্ট হয়ে যায়। ধান, গম, আখ ও তুলা উৎপাদনে দেশের ৮০ শতাংশের বেশি পানি ব্যবহৃত হলেও জাতীয় অর্থনীতিতে এগুলোর অবদান মাত্র ৫ শতাংশের কাছাকাছি। বিশেষজ্ঞদের মতে, সেচ ব্যবস্থার মাত্র এক শতাংশ পানি রক্ষা করা গেলে তা একটি ১ গিগাওয়াটের ডেটা সেন্টারকে পুরো এক শতাব্দী চালানো সম্ভব।

এই ঝুঁকি এড়াতে ডেটা সেন্টারের ছাড়পত্রে পানির ব্যবহারে কঠোর শর্ত আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। শুষ্ক কিংবা ক্লোজড-লুপ ধরনের আধুনিক শীতলীকরণ প্রযুক্তি ব্যবহার করলে স্বাদু পানির ব্যবহার প্রায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব। পাশাপাশি বর্জ্য পানি প্রক্রিয়াজাত করে তা শীতলীকরণে ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। কারণ বর্তমানে পাকিস্তান তার সংগৃহীত বর্জ্য পানির মাত্র এক শতাংশ পরিশোধন করে। দেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মতো সমুদ্রের কাছাকাছি বা সুবিধাজনক স্থানে এসব কেন্দ্র স্থাপন করলে সুপেয় পানির উৎসের ওপর চাপ কমবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।