ডেইলি বাংলাগ্রাম

শামীমকে পিটিয়ে হত্যাকে ‘দুর্ঘটনা’ দাবি করলেন প্রধান আসামি আমিনী

সাতক্ষীরার দেবহাটায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ওয়াহিদুজ্জামান শামীমকে (৩৮) পিটিয়ে হত্যার ঘটনাকে ‘অ্যাক্সিডেন্ট’ বা দুর্ঘটনা বলে দাবি করেছেন মামলার প্রধান আসামি ফজলুল হক আমিনী।

শামীমকে পিটিয়ে হত্যাকে ‘দুর্ঘটনা’ দাবি করলেন প্রধান আসামি আমিনী

সাতক্ষীরার দেবহাটায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ওয়াহিদুজ্জামান শামীমকে (৩৮) পিটিয়ে হত্যার ঘটনাকে ‘অ্যাক্সিডেন্ট’ বা দুর্ঘটনা বলে দাবি করেছেন মামলার প্রধান আসামি ফজলুল হক আমিনী। রোববার বিকেলে সাংবাদিকদের সামনে তিনি এ কথা বলেন। একই সঙ্গে আইনের চোখে নিজেকে অপরাধী বললেও অন্যভাবে তিনি নিজেকে অপরাধী মনে করেন না বলে জানান। এর আগে শনিবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে কালীগঞ্জ উপজেলার ফরিদপুর গ্রাম থেকে পুলিশ ও এসআরবি তাঁকে গ্রেপ্তার করে। রোববার বিকেলে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় পুলিশ তাঁকে রিমান্ডে নেয়নি।

শামীমকে হত্যার আগে আমিনী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুবার সরাসরি সম্প্রচার (লাইভ) করে লোকজন জড়ো করেছিলেন। পরবর্তীতে দফায় দফায় মারধরের পর শামীমের মরদেহের ছবিও তিনি ফেসবুকে প্রকাশ করেন। ঘটনার সূত্রপাত হয় গত সোমবার শামীমের একটি অডিও ছড়িয়ে পড়ার পর। ওই দিন বাজারে মারধরের শিকার হয়ে শামীম বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান। পরে এক পল্লিচিকিৎসকের চেম্বারে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় মঙ্গলবার বিকেলে একদল লোক তাঁকে টেনে বের করে পুনরায় মারধর করে। পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়। কিন্তু রাতে আমিনীর নেতৃত্বে একদল লোক হাসপাতালে ঢুকে তাঁকে আবারও মারধর করে। সেখান থেকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে শামীম মারা যান।

এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই আবদুল জলিল দেবহাটা থানায় আমিনীসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর আগে এজাহারভুক্ত দুই আসামি মোখতার হোসেন খান ও আসাদুল ইসলাম মোল্লাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। নিহত শামীমের বাড়ি সুবর্ণাবাদ গ্রামে। তাঁর স্ত্রী নাজমা খাতুন জানান, শামীম মানসিক সমস্যায় ভুগে নিয়মিত ওষুধ খেতেন এবং শহরের একটি হোটেলে কাজ করতেন। বর্তমানে দুই ছোট সন্তানকে নিয়ে তিনি ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।