জীবনযাত্রার ব্যয় ও আবাসন সংকটে উত্তাল ইতালি এবং পর্তুগাল
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং আবাসন সংকটের প্রতিবাদে ইতালি ও পর্তুগালে বড় ধরনের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং আবাসন সংকটের প্রতিবাদে ইতালি ও পর্তুগালে বড় ধরনের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। স্পেন ও ফ্রান্সে শুরু হওয়া গণঅসন্তোষের রেশ ধরে ইতালির মিলান এবং পর্তুগালের লিসবনে এই আন্দোলন শুরু হয়। শনিবার মিলানে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। একই সময়ে পর্তুগালের রাজধানী লিসবনের কেন্দ্রস্থলে তাঁবু টানিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন আন্দোলনকারীরা।
মিলানের কেন্দ্রস্থলে আয়োজিত পদযাত্রাটি শুরুতে শান্তিপূর্ণ থাকলেও পরে সহিংসতায় রূপ নেয়। মুখোশধারী বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ে এবং ব্যারিকেডে আগুন দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। এতে অন্তত দুজন পুলিশ সদস্য আহত হন এবং অপ্রাপ্তবয়স্কসহ প্রায় ৫০ জনকে আটক করা হয়। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি সহিংসতায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিক্ষোভ করার অধিকার থাকলেও শহর জ্বালিয়ে দেওয়ার অধিকার কারও নেই। অন্যদিকে লিসবনের রোসিও চত্বরে হাজারো মানুষ জমায়েত হয়ে তাঁবু গেড়ে রাত কাটান। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে পর্তুগালে বাড়ির দাম ১২৪ শতাংশ বেড়েছে, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের গড় বৃদ্ধির প্রায় দ্বিগুণ। পর্তুগালের প্রধানমন্ত্রী লুইস মন্টিনিগ্রো জনঅসন্তোষের বিষয়টি স্বীকার করলেও দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
ইউরোপের অন্যান্য দেশেও একই ধরনের অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। আলবেনিয়ায় শিক্ষার পরিবেশ ও অতিরিক্ত ফির প্রতিবাদে প্রধানমন্ত্রী এডি রামার পদত্যাগ চেয়ে শুরু হওয়া বিক্ষোভ সহিংস রূপ নিয়েছে। সেখানে বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন ভবনে আগুন দেয় এবং পুলিশ তাদের ওপর রবার বুলেট ছোড়ে। স্পেনে ৮৭ বছর বয়সী এক নারীকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদের জেরে ছড়িয়ে পড়া আন্দোলনের পর আগামী নভেম্বরের শেষে আগাম নির্বাচনের ডাক দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ফ্রান্সে বৈষম্যের বিরুদ্ধে চলা শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের বিক্ষোভ থেকে শনিবার ১,২০০ জনেরও বেশি মানুষকে আটক করেছে পুলিশ।