গাজায় ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ ফিলিস্তিনির মরদেহ দাফন
গাজা সিটিতে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় বিধ্বস্ত ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে সম্প্রতি ৭৫ জন ফিলিস্তিনির দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে।
গাজা সিটিতে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় বিধ্বস্ত ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে সম্প্রতি ৭৫ জন ফিলিস্তিনির দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশু রয়েছে। রোববার শত শত মানুষের উপস্থিতিতে তাদের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়। ফিলিস্তিনের জাতীয় পতাকায় মোড়ানো মরদেহগুলো দরাজ স্পোর্টস ক্লাব প্রাঙ্গণ থেকে নিয়ে শেখ রাদওয়ান কবরস্থানে সমাহিত করা হয়। যুদ্ধের শুরুর দিকে উত্তর-পূর্ব গাজা সিটির দরাজ এলাকার বাড়িঘরে বোমাবর্ষণে এসব ফিলিস্তিনি নিহত হন। নিহতরা বাস্তুচ্যুত মানুষসহ প্রায় ২০টি পরিবারের সদস্য ছিলেন।
বেসামরিক প্রতিরক্ষা দলের কর্মকর্তারা জানান, ভারী যন্ত্রপাতির তীব্র সংকটের মধ্যেও উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ১৯ জুলাই শুরু হওয়া দ্বিতীয় পর্যায়ের উদ্ধার প্রকল্পের আওতায় গাজা সিটি এবং উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের ১৪৭টি বিধ্বস্ত ভবনে তল্লাশি চলছে। এসব ধ্বংসাবশেষে এখনও আনুমানিক ১ হাজার ৭২ জনের মরদেহ চাপা পড়ে থাকার আশঙ্কা রয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের নভেম্বরে পরিচালিত প্রথম ধাপে ৫৪টি ভবন থেকে ৩৩৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়। প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবে তখন ২২৬ জনের কাছে পৌঁছানো যায়নি। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও আট হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছে এবং বর্তমান সরঞ্জাম দিয়ে এগুলো পুরোপুরি উদ্ধার করতে প্রায় আট বছর লেগে যেতে পারে।
২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম ধাপ অনুযায়ী গাজায় ভারী যন্ত্রপাতি প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার কথা ছিল। তবে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করার অভিযোগ তুলেছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলা ইসরায়েলি হামলায় গাজায় এ পর্যন্ত ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। এছাড়া এই উপত্যকার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।