ইউক্রেনে স্টারলিংকের লাগাম, সামরিক অভিযানে বড় ধাক্কা
যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত স্টারলিংক ইন্টারনেটের গতিতে হঠাৎ সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স।
যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত স্টারলিংক ইন্টারনেটের গতিতে হঠাৎ সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স। মঙ্গলবার রাতে কার্যকর হওয়া এই নিয়মে ড্রোনগুলোর সংযোগ বজায় রাখার গতি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৬০ কিলোমিটারে (১০০ মাইল) বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এর চেয়ে বেশি গতিতে চললে ইউক্রেনীয় ড্রোনগুলোর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে সেগুলো অকার্যকর হয়ে পড়ছে। আকস্মিক এই সিদ্ধান্তের ফলে রণক্ষেত্রে ইউক্রেনের বিভিন্ন অভিযান বিঘ্নিত হচ্ছে এবং আকাশপথে রুশ হামলা মোকাবিলার সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইউক্রেনের সামরিক যোগাযোগের মূল ভিত্তি হয়ে উঠেছে স্টারলিংক নেটওয়ার্ক। স্থল, নৌ ও বিমান বাহিনীর ড্রোন এবং কমান্ড পোস্টগুলোকে সরাসরি যুক্ত রাখতে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। বিশেষ করে ঘণ্টায় ৩১৯ কিলোমিটারের বেশি গতিতে আসা রাশিয়ার ‘শাহেদ’ ড্রোনগুলোকে ধাওয়া করতে স্টারলিংকের সাহায্য লাগত। নতুন গতিসীমার কারণে সেই প্রতিরোধ প্রচেষ্টা এখন চরম বাধার মুখে পড়েছে। সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাৎক্ষণিক কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় ইন্টারনেটের গতি কমানোর ফলে বহু মানুষের প্রাণহানির ঝুঁকি বেড়ে গেছে।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ইউক্রেনকে স্টারলিংক ও সামরিক গ্রেডের ‘স্টারশিল্ড’ ব্যবহারের সুযোগ দেয় যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমানে মহাকাশে স্পেসএক্সের ১০ হাজারেরও বেশি সক্রিয় স্যাটেলাইট রয়েছে। মাঠপর্যায়ে সহজে স্থাপনযোগ্য এই প্রযুক্তি ড্রোন অপারেটরদের নিখুঁত লক্ষ্য নির্ধারণে সাহায্য করে। রাশিয়ায় এই সেবার অনুমোদন না থাকলেও তারা দখলকৃত অঞ্চলে অবৈধভাবে টার্মিনাল ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সাম্প্রতিক এই পদক্ষেপে স্টারলিংকের ওপর ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর গভীর নির্ভরশীলতার বিষয়টি আবারও স্পষ্ট হলো।