ভোটার যুক্ত করার চেয়ে নাম বাদ দেওয়াতেই কমিশনের আগ্রহ বেশি: অশোক লাভাসা
পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে যথাযথ প্রমাণ ছাড়াই কেবল সন্দেহের ভিত্তিতে বহু নাগরিকের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে যথাযথ প্রমাণ ছাড়াই কেবল সন্দেহের ভিত্তিতে বহু নাগরিকের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) এক নাগরিক সম্মেলনে ভারতের সাবেক নির্বাচন কমিশনার অশোক লাভাসা এই অভিযোগ করেন। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা ‘এসআইআর’ নিয়ে ওই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। তিনি মন্তব্য করেন, নির্বাচন কমিশন এখন নতুন যোগ্য ভোটার যুক্ত করার চেয়ে তালিকা থেকে নাগরিকদের বাদ দিতেই বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছে।
তিনি জানান, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার একমাত্র বৈধ ক্ষমতা রয়েছে ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার বা ইআরও-দের। অথচ তাঁদের কেন্দ্রীয় ‘ইসিআইনেট’ সফটওয়্যারে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি, যা আইনসম্মত নয়। প্রশাসনিক নথির সামান্য অসঙ্গতি কারও ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার কারণ হতে পারে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই পদক্ষেপের ফলে ভোটারদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়ার জেরে ট্রাইব্যুনালগুলোতে প্রায় ৩৮.৩ লাখ আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে নাম বাদ পড়ার বিরুদ্ধে ২২.২ লাখ এবং অন্তর্ভুক্তির বিরুদ্ধে ১৬.১ লাখ আবেদন রয়েছে।
সম্মেলনে অংশ নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাতা প্রকাশ রাজ অভিযোগ করেন, বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার নির্বাচন কমিশনকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে রক্ষা করার চেষ্টার মাধ্যমে সেটি স্পষ্ট হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। একই সঙ্গে ফর্ম ৭ ব্যবহার করে সংখ্যালঘু ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তোলেন তিনি। ওই ভার্চুয়াল সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক আমলা ও রাজ্যসভার সাংসদ জহর সরকার, সাবেক সাংসদ বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য এবং সাবেক আইএএস কর্মকর্তা অনিতা অগ্নিহোত্রী।