কলকাতার হোটেল বন্ধের ফলে বাংলাদেশি পর্যটক ও রোগীরা বিপর্যস্ত
১৯ আগস্ট শিখা ইন হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে সাতজন বাংলাদেশি এবং দুইজন অন্য জাতির মৃত্যুর পর, কলকাতা প্রশাসন ৯১৯টি আবাসিক হোটেল ও অতিথিশালার নিরাপত্তা পরিদর্শন করেছে।

১৯ আগস্ট শিখা ইন হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে সাতজন বাংলাদেশি এবং দুইজন অন্য জাতির মৃত্যুর পর, কলকাতা প্রশাসন ৯১৯টি আবাসিক হোটেল ও অতিথিশালার নিরাপত্তা পরিদর্শন করেছে। পরিদর্শনে মাত্র ৪১টিতে সঠিক অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা পাওয়া গিয়েছে; বাকি প্রায় এক হাজার হোটেল বন্ধ করা হয়েছে। ফলে নিউ মার্কেটের মির্জা গালিব, কলিন, সদর, মাকর্কুইস ও ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের মতো এলাকায় থাকা বাংলাদেশি পর্যটক ও চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা হোটেল না পেয়ে দেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
৬ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বেনাপোল চেকপোস্টে মোট ১১,৯৫৪ জন দেশি-বিদেশি পাসপোর্টধারী যাত্রী প্রবেশ করেছে। এর মধ্যে ৯,৭৮৮ জন বাংলাদেশি, ২,১৫১ জন ভারতীয় এবং ১৫ জন অন্যান্য দেশের। একই সময়ে ভারতে প্রবেশ করা বাংলাদেশি ৫,৫৩৪ জন, ভারতীয় ১,১৬২ জন এবং অন্যান্য দেশের ৭ জন। ভারত থেকে বাংলাদেশে ফিরে আসা যাত্রীদের সংখ্যা ছিল বাংলাদেশি ৪,২৫৪, ভারতীয় ৯৮৯ এবং অন্যান্য দেশের ৮।
হোটেল বন্ধের ফলে ভাড়া দ্বিগুণের কাছাকাছি বেড়েছে; এক হাজার রুপি দামের হোটেল এখন দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার রুপি চায়, আর ৫০০‑৬০০ রুপি দামের হোটেলও এক হাজার পাঁচশ থেকে আটশ রুপি পর্যন্ত বাড়েছে। অনেক বাংলাদেশি রোগী ও তাদের পরিবার এখন শিয়ালদহ, মুকুন্দপুর, আনন্দপুর ইত্যাদি দূরবর্তী এলাকায় থাকা বাধ্য হচ্ছে। জাহাঙ্গীর আলম জানান, শিখা ইনের অগ্নিকাণ্ডের পর তাদের হোটেলও বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা এক সপ্তাহের বেশি থাকতে পারছিল না এবং বাড়তি খরচের কারণে দেশে ফিরে এসেছেন। শ্যামল কুমার রায়ও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করে, হোটেল নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে তারা ভ্রমণ চালিয়ে যাবে না।