ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা বিল সংসদে উত্থাপন, পর্যালোচনায় স্থায়ী কমিটি
নাগরিকের তথ্য ব্যবহারে সম্মতি বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব; স্বাধীন কমিশনের ক্ষমতা ও সরকারি সংস্থার ছাড় নিয়ে বিতর্ক
দীর্ঘ আলোচনার পর ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা বিল আজ জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী বিলটি উত্থাপন করলে স্পিকার সেটি পরীক্ষা করে ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটিতে পাঠান। বিলে নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট সম্মতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
বিলের মূল বিধানগুলোর মধ্যে রয়েছে একটি স্বাধীন তথ্য সুরক্ষা কমিশন গঠন, তথ্য ফাঁসের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবহারকারীকে জানানোর বাধ্যবাধকতা, সংবেদনশীল তথ্য দেশের বাইরে পাঠাতে অনুমতির প্রয়োজন এবং লঙ্ঘনের জন্য সর্বোচ্চ বার্ষিক টার্নওভারের ৪ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা। ১৮ বছরের কম বয়সীদের তথ্য ব্যবহারে অভিভাবকের সম্মতি লাগবে।
প্রতিমন্ত্রী সংসদে বলেন, “মোবাইল ব্যাংকিং থেকে টেলিমেডিসিন, নাগরিকের জীবনের প্রতিটি অংশ এখন ডিজিটাল। কিন্তু সেই তথ্য কে রাখছে, কোথায় বিক্রি করছে, তার কোনো জবাবদিহি নেই। এই আইন নাগরিককে তার নিজের তথ্যের ওপর অধিকার ফিরিয়ে দেবে।”
তবে বিলের কিছু ধারা নিয়ে বিরোধী সদস্য ও নাগরিক সমাজ উদ্বেগ জানিয়েছে। বিলের ৩৪ ধারায় ‘জাতীয় নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলা’র স্বার্থে সরকারি সংস্থাকে সম্মতি ছাড়াই তথ্য ব্যবহারের যে ছাড় দেওয়া হয়েছে, তা অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি করবে বলে অভিযোগ। একজন বিরোধী সংসদ সদস্য বলেন, স্বাধীন কমিশনের সদস্য নিয়োগ যদি সরকারই করে, তাহলে স্বাধীনতা থাকে কোথায়।
ডিজিটাল অধিকার নিয়ে কাজ করা একটি সংগঠনের পরিচালক বলেন, বিলের নাগরিক-অধিকার অংশটি আন্তর্জাতিক মানের কাছাকাছি, কিন্তু সরকারি সংস্থার ছাড় ও কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া সংশোধন না হলে আইনটি মূল উদ্দেশ্য পূরণ করতে পারবে না। তিনি স্থায়ী কমিটিতে অংশীজনদের শুনানির দাবি জানান।
প্রযুক্তি খাতের ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো আইনের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করলেও ছোট প্রতিষ্ঠানের জন্য বাস্তবায়ন সময়সীমা দুই বছর করার এবং তথ্য দেশের বাইরে পাঠানোর নিয়ম শিথিল করার অনুরোধ জানিয়েছে। স্থায়ী কমিটির সভাপতি জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহে প্রথম বৈঠকে বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের ডাকা হবে এবং প্রতিবেদন যথাসময়ে সংসদে জমা দেওয়া হবে।