ডেইলি বাংলাগ্রাম

তরুণদের কর্মসংস্থানকে ইশতেহারের কেন্দ্রে রাখার ঘোষণা গণতান্ত্রিক ঐক্য জোটের

জোটের নীতিনির্ধারণী সভা শেষে ঘোষণা: ক্ষমতায় গেলে প্রথম দুই বছরে ২০ লাখ কর্মসংস্থান, কারিগরি শিক্ষায় বিনিয়োগ দ্বিগুণ

১ মিনিটে পড়ুন
নীতিনির্ধারণী সভা শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি জোট নেতারা
নীতিনির্ধারণী সভা শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি জোট নেতারা

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের ইশতেহারে তরুণদের কর্মসংস্থানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিরোধী শিবিরের গণতান্ত্রিক ঐক্য জোট। রাজধানীর একটি হোটেলে দুই দিনের নীতিনির্ধারণী সভা শেষে আজ জোটের সমন্বয়ক সাংবাদিকদের এ কথা জানান। তিনি বলেন, ক্ষমতায় গেলে প্রথম দুই বছরে ২০ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় বরাদ্দ দ্বিগুণ করার প্রতিশ্রুতি থাকবে ইশতেহারে।

সভায় জোটের শরিক পাঁচটি দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সূত্র জানায়, ইশতেহারের খসড়ায় ‘তরুণ উদ্যোক্তা তহবিল’ নামে পাঁচ হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল গঠন, বিদেশে দক্ষ শ্রমিক পাঠানোর জন্য জেলায় জেলায় ভাষা ও দক্ষতা কেন্দ্র এবং প্রথম চাকরিতে নিয়োগ দেওয়া প্রতিষ্ঠানকে এক বছরের কর ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।

জোটের সমন্বয়ক বলেন, “প্রতিবছর ২০ লাখের বেশি তরুণ শ্রমবাজারে ঢুকছে, কিন্তু কাজ পাচ্ছে অর্ধেকেরও কম। বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ হাতে নিয়ে বছরের পর বছর চাকরির পরীক্ষা দেওয়া এই প্রজন্মের হতাশা আমরা দেখছি। ইশতেহার হবে তাদের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা, কেবল প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি নয়।”

জোটের শরিক জাতীয় জনকল্যাণ পার্টির একজন নেতা জানান, ইশতেহারের একটি অংশ তৈরি হয়েছে গত তিন মাসে ৪০ জেলায় তরুণদের সঙ্গে ‘সংলাপ ক্যাম্প’-এ পাওয়া মতামতের ভিত্তিতে। সেখানে সবচেয়ে বেশি উঠে এসেছে সরকারি চাকরির আবেদন ফি কমানো, নিয়োগ পরীক্ষায় দীর্ঘসূত্রতা বন্ধ করা এবং ইন্টারনেটের খরচ কমানোর দাবি।

ক্ষমতাসীন জোটের একজন জ্যেষ্ঠ নেতা বিরোধীদের ঘোষণাকে ‘অবাস্তব সংখ্যার খেলা’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, দুই বছরে ২০ লাখ কর্মসংস্থানের অর্থায়ন কোথা থেকে আসবে তার কোনো ব্যাখ্যা নেই। জবাবে জোটের সমন্বয়ক বলেন, অর্থায়নের বিস্তারিত পরিকল্পনা ইশতেহারের সঙ্গেই প্রকাশ করা হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটার তালিকায় নতুন যুক্ত হওয়া প্রায় ৩৮ লাখ তরুণ ভোটার এবং ৩০ বছরের নিচের মোট প্রায় সাড়ে তিন কোটি ভোটারই এবারের নির্বাচনের নিয়ামক হতে পারে। একজন বিশ্লেষক বলেন, দুই পক্ষই এখন তরুণদের মন জয়ের প্রতিযোগিতায় নেমেছে, তবে ভোটাররা প্রতিশ্রুতির চেয়ে বাস্তবায়নের রেকর্ড দেখবেন। জোটের পূর্ণাঙ্গ ইশতেহার অক্টোবরের মাঝামাঝি প্রকাশ হওয়ার কথা।