ডেইলি বাংলাগ্রাম

৯৬‑বছরীর টুনু, সম্পত্তি বিরোধে আদালতে উপস্থিত হয়ে মারা গেলেন

জীবিত থাকতেই কাগজপত্রে তাকে ‘মৃত’ দেখিয়ে সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করা হয়েছিল- এমন অভিযোগের মধ্যেই মারা গেলেন পাবনার ফরিদপুর উপজেলার দিঘলিয়া গ্রামের ৯৬ বছর বয়সী শামসুল আলম টুনু। নিজের জীবিত থাকার প্রমাণ দিতে জীবনের শেষ সময়ে তাকে আদালতের বারান্দায় ঘুরতে হয়েছে।বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিক...

৯৬‑বছরীর টুনু, সম্পত্তি বিরোধে আদালতে উপস্থিত হয়ে মারা গেলেন

পাবনার ফরিদপুরের দিঘলিয়া গ্রাম থেকে ৯৬ বছর বয়সী শামসুল আলম টুনু, ১০ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টায় ঢাকার এক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু স্বীকার করেন। তিনি শেষ মুহূর্তে আদালতের বারান্দায় নিজের জীবিত থাকা প্রমাণ করতে বাধ্য হন, কারণ সম্পত্তি নিয়ে চলমান বিরোধে তাকে মৃত বলে দেখানোর অভিযোগ ছিল।

টুনুর পরিবার জানায়, পৈতৃক জমি ও বসতভিটা নিয়ে দীর্ঘদিনের টানাপোড়া রয়েছে। বিরোধী পক্ষ তার মৃত মাকে জীবিত দেখিয়ে, টুনুকে মৃত বলে জাল কাগজপত্র তৈরি করে সম্পত্তি দখল করার চেষ্টা করে। এছাড়া তার মায়ের প্রায় ১০০ বিঘা জমি দখল করে সেখানে মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। এই অনিয়মের প্রতিবাদে টুনুর বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার মামলা দায়ের করা হয়, যা পরিবার মিথ্যা ও হয়রানিমূলক বলে খণ্ডনা করে।

ক্যান্সারে আক্রান্ত টুনু, রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ঢাকা থেকে পাবনা আদালতে গিয়ে মামলায় হাজির হন। দুই দিন রোগের সঙ্গে লড়াই করার পর তিনি ঢাকার হাসপাতালে মারা যান। তার এক ছেলে আহমেদ আক্তার জ্যোতি ও এক মেয়ে শিখা বেঁচে আছেন; দুই ছেলে আগে মারা গেছেন। পরিবার শুক্রবার সকাল ৯টায় গ্রামের বাড়িতে নামাজে জানাজা আয়োজনের কথা জানিয়েছে এবং জালিয়াতি ও সম্পত্তি দখলের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ও সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের দাবি জানিয়েছে।