হালনাগাদ ভোটার তালিকায় নতুন ভোটার ৩৮ লাখ, মোট ভোটার ছাড়াল ১৩ কোটি
নির্বাচন কমিশন খসড়া তালিকা প্রকাশ করেছে; মৃত ভোটার বাদ দেওয়া হয়েছে ১৭ লাখ, আপত্তি ও সংশোধনের সময় ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত
দেশে ভোটার সংখ্যা ১৩ কোটি ছাড়িয়ে গেছে। নির্বাচন কমিশন আজ হালনাগাদ ভোটার তালিকার খসড়া প্রকাশ করেছে, যেখানে নতুন ভোটার হিসেবে যুক্ত হয়েছেন ৩৮ লাখ ১২ হাজার নাগরিক। একই সময়ে মৃত্যুজনিত কারণে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে ১৭ লাখ ৪০ হাজার নাম। সব মিলিয়ে খসড়া তালিকায় ভোটার এখন ১৩ কোটি ৬ লাখ।
কমিশনের সচিব সংবাদ সম্মেলনে জানান, নতুন ভোটারের ৫২ শতাংশ নারী এবং ৯০ শতাংশের বয়স ১৮ থেকে ২২ বছরের মধ্যে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত চলেছে, যাতে ৬৫ হাজার তথ্যসংগ্রহকারী অংশ নেন। প্রবাসীদের মধ্যে অনলাইনে নিবন্ধন করেছেন ২ লাখ ৩০ হাজার জন, যা আগের হালনাগাদের তুলনায় তিন গুণ।
তিনি বলেন, “খসড়া তালিকা প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও ওয়ার্ড কার্যালয়ে টানানো হয়েছে এবং কমিশনের ওয়েবসাইটে জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর দিয়ে যে কেউ নিজের তথ্য যাচাই করতে পারবেন। ভুল বা আপত্তি থাকলে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নির্ধারিত ফরমে জানাতে হবে। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হবে ২ নভেম্বর।”
এবারের হালনাগাদে দ্বৈত ভোটার শনাক্ত করতে আঙুলের ছাপ ও চোখের মণির তথ্য মিলিয়ে দেখা হয়েছে। এতে ৬ হাজারের বেশি দ্বৈত নিবন্ধন ধরা পড়েছে, যেগুলো বাতিল করা হয়েছে। কমিশন বলছে, যারা ইচ্ছাকৃতভাবে দুইবার নিবন্ধন করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজনৈতিক দলগুলো খসড়া তালিকা নিয়ে সতর্ক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। একটি প্রধান বিরোধী দলের মুখপাত্র বলেন, অতীতে মৃত ভোটার তালিকায় থেকে যাওয়ার এবং বৈধ ভোটার বাদ পড়ার অভিযোগ ছিল, তাই এবার তাঁরা নিজেদের কর্মীদের দিয়ে এলাকাভিত্তিক যাচাই করবেন। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন জোটের একজন নেতা বলেন, কমিশনের প্রক্রিয়া স্বচ্ছ এবং প্রযুক্তিনির্ভর হওয়ায় বিতর্কের সুযোগ কমেছে।
নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলো হালনাগাদ প্রক্রিয়াকে ইতিবাচক বলেছে, তবে তারা আপত্তি জানানোর সময়সীমা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে। একজন পর্যবেক্ষক বলেন, প্রবাসী ও হাওর-চর এলাকার অনেক নাগরিক তিন সপ্তাহের মধ্যে খসড়া দেখার সুযোগই পাবেন না। কমিশন জানিয়েছে, সময় বাড়ানোর বিষয়টি পরের সভায় বিবেচনা করা হবে।