ডেইলি বাংলাগ্রাম

জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলো ৮০০ মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎ, লোডশেডিং কমার আশা

পাঁচ জেলায় ছড়ানো সাতটি সৌর প্রকল্প একসঙ্গে উৎপাদনে; নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ এখন মোট সক্ষমতার ৯ শতাংশ

১ মিনিটে পড়ুন
ঈশ্বরদীতে সৌর প্যানেলের সারি
ঈশ্বরদীতে সৌর প্যানেলের সারি

দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে এক দিনে সবচেয়ে বড় সংযোজন ঘটল। পাঁচ জেলায় নির্মিত সাতটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে মোট ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, এর মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রকল্পটি পাবনার ঈশ্বরদীতে, যার সক্ষমতা ২৫০ মেগাওয়াট। বাকিগুলো ময়মনসিংহ, গাইবান্ধা, চট্টগ্রামের মিরসরাই ও ফেনীতে।

এর ফলে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গেল, যা মোট সক্ষমতার প্রায় ৯ শতাংশ। সরকারের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে এই হার ২০ শতাংশে উন্নীত করা। বিদ্যুৎ বিভাগের একজন অতিরিক্ত সচিব বলেন, দিনের বেলায় শিল্প এলাকায় চাহিদার একটি বড় অংশ এখন সৌর থেকে মেটানো সম্ভব হবে, যার ফলে গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমবে।

গত গ্রীষ্মে জ্বালানি সংকটে দেশে দিনে গড়ে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হয়েছিল। গ্রামাঞ্চলে অনেক এলাকায় দিনে ছয়-সাত ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকত না। নতুন সৌর প্রকল্পগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চললে আগামী গ্রীষ্মে দিনের বেলার ঘাটতি অনেকটা কমবে বলে আশা করছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড।

খরচ ও চ্যালেঞ্জ

সাতটি প্রকল্পের মধ্যে চারটি বেসরকারি বিনিয়োগে নির্মিত, যেখানে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের ক্রয়মূল্য নির্ধারিত হয়েছে ৯ থেকে ১০ টাকার মধ্যে। গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুতের গড় খরচের তুলনায় এটি কিছুটা বেশি হলেও তেলভিত্তিক কেন্দ্রের তুলনায় অর্ধেকের কম। জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় চ্যালেঞ্জ হলো সন্ধ্যার পর চাহিদা মেটানো, যখন সৌর উৎপাদন থাকে না।

একজন জ্বালানি অর্থনীতিবিদ বলেন, “সৌর সক্ষমতা বাড়ানো ভালো, কিন্তু সঙ্গে ব্যাটারি সংরক্ষণ ও গ্রিড আধুনিকায়ন না হলে সন্ধ্যার পিক আওয়ারের সংকট থেকেই যাবে। সঞ্চালন লাইনের সীমাবদ্ধতায় উত্তরাঞ্চলের কিছু প্রকল্প এখনই পূর্ণ সক্ষমতায় চলতে পারছে না।” বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, ৫০০ মেগাওয়াট-ঘণ্টার ব্যাটারি সংরক্ষণ প্রকল্পের দরপত্র আগামী মাসে আহ্বান করা হবে।

প্রকল্পগুলোর জমি অধিগ্রহণ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে কিছু অভিযোগও রয়েছে। গাইবান্ধার একটি প্রকল্পে কৃষকদের একটি অংশ ক্ষতিপূরণ কম দেওয়ার অভিযোগ করেছেন। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, অভিযোগ যাচাই করে দ্রুত সমাধান করা হবে।