ডেইলি বাংলাগ্রাম

ঢাকায় এক টিকিটে ৪২ রুটে বাস, ‘নগর পরিবহন’-এর পূর্ণাঙ্গ যাত্রা শুরু অক্টোবরে

বাস রুট রেশনালাইজেশনের আওতায় সব কোম্পানির বাস একই রঙ ও একই ভাড়ায় চলবে; র‍্যাপিড পাস দিয়ে মেট্রো ও বাসে একই কার্ড

২ মিনিটে পড়ুন
রাজধানীর একটি সড়কে নতুন ‘নগর পরিবহন’ বাস
রাজধানীর একটি সড়কে নতুন ‘নগর পরিবহন’ বাস

রাজধানীর বিশৃঙ্খল বাস ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বাস রুট রেশনালাইজেশন প্রকল্প পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হচ্ছে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে। ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ আজ জানিয়েছে, প্রথম ধাপে ৪২টি রুটে ২ হাজার ৩০০ বাস ‘নগর পরিবহন’ ব্র্যান্ডের অধীনে চলবে। সব বাসের রঙ হবে সবুজ, ভাড়া হবে দূরত্বভিত্তিক এবং কাউন্টার ছাড়া কোথাও যাত্রী ওঠানামা করা যাবে না।

বর্তমানে ঢাকায় ২৯০টির বেশি রুটে দুই হাজারের বেশি কোম্পানির বাস চলে, যার ফলে একই রুটে বাসের প্রতিযোগিতা, যেখানে-সেখানে থামা ও দুর্ঘটনার প্রবণতা বেশি। নতুন ব্যবস্থায় প্রতিটি রুট একটি নির্দিষ্ট কোম্পানির অধীনে থাকবে এবং আয় জমা হবে একটি কেন্দ্রীয় তহবিলে, যেখান থেকে চুক্তি অনুযায়ী মালিকেরা অর্থ পাবেন।

কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক বলেন, “চালকের আয় যাত্রীসংখ্যার ওপর নির্ভর করবে না, তাই রেষারেষি বন্ধ হবে। সব চালককে ডোপ টেস্ট ও ১৫ দিনের প্রশিক্ষণ দিয়ে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।” তিনি জানান, শুরুতে ২১টি রুটে র‍্যাপিড পাস দিয়ে ভাড়া দেওয়া যাবে, যে কার্ড এখন মেট্রোরেলে ব্যবহৃত হয়।

পরিবহন মালিকদের একটি অংশ শুরুতে বিরোধিতা করলেও সমঝোতায় পৌঁছেছে বলে জানা গেছে। বাস মালিক সমিতির একজন নেতা বলেন, পুরোনো বাস প্রতিস্থাপনে সহজ শর্তে ঋণ ও দুই বছরের কর অবকাশের প্রতিশ্রুতি পাওয়ার পর তাঁরা রাজি হয়েছেন। তবে ২০ বছরের বেশি পুরোনো ১ হাজার ২০০ বাস রাস্তা থেকে সরিয়ে নিতে হবে।

যাত্রী অধিকার নিয়ে কাজ করা একটি সংগঠন এই উদ্যোগকে ইতিবাচক বললেও বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে। সংগঠনের মহাসচিব বলেন, “২০২১ সালে পরীক্ষামূলক রুটে যা হয়েছিল তা দেখেছি। কাউন্টার না থাকা, বাসের অভাব আর নজরদারির ঘাটতিতে সেটা মুখ থুবড়ে পড়েছিল। এবার তদারকির স্থায়ী কাঠামো না থাকলে একই পরিণতি হবে।”

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিটি বাসে জিপিএস ও ক্যামেরা থাকবে, আর যাত্রীরা মোবাইল অ্যাপে বাসের অবস্থান দেখতে পারবেন। ২০২৭ সালের মধ্যে বাকি রুটগুলোকেও নতুন ব্যবস্থার আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে। এর পাশাপাশি ২০০টি বৈদ্যুতিক বাস কেনার প্রক্রিয়াও চলছে। নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, মেট্রোরেল ও নতুন বাস ব্যবস্থা একসঙ্গে কার্যকর হলে আগামী তিন বছরে ঢাকার সড়কে ব্যক্তিগত গাড়ির চাপ অন্তত ১০ শতাংশ কমানো সম্ভব, যা যানজটে হারানো কর্মঘণ্টা কমাতে সরাসরি ভূমিকা রাখবে।