চারজন এসএসসি শিক্ষার্থী জিপিএ‑৫ পেয়েছেন, তবে উচ্চশিক্ষার খরচ নিয়ে উদ্বেগ
এবারের এসএসসি পরীক্ষায় চারটি শিক্ষার্থী জিপিএ‑৫ পেয়েছেন।
এবারের এসএসসি পরীক্ষায় চারটি শিক্ষার্থী জিপিএ‑৫ পেয়েছেন। সবাই গরিব পরিবারের সন্তান। তারা উচ্চশিক্ষা করতে চায়, তবে আর্থিক ভার তাদের চিন্তায় রাখে।
ফরিদপুরের জোহরা বেগম উচ্চ বিদ্যালয়ের সাদিকা আক্তার, মা মোহসিনা বেগমের সঙ্গে বসবাস করেন। বাবা-মা বিচ্ছেদে পরিবার ভেঙে গিয়েছে। সাদিকা চিকিৎসক হতে চায়, তবে উচ্চমাধ্যমিকের খরচের কারণে মানবিক বিভাগে ভর্তি হওয়ার কথা ভাবছে। গোপালন্দের শাকের ফকিরপাড়া থেকে সানজিনা ইসলাম, বাবা রফিকুল ইসলামের বিদেশে কাজের অপ্রাপ্তি এবং মা কুলসুম আক্তারের আর্থিক সংকটে ফ্রি ইউটিউব ক্লাসে পড়ে জিপিএ‑৫ পেয়েছেন; তিনি কামরুল ইসলাম কলেজে ভর্তি হতে চান, তবে খরচ নিয়ে দ্বিধা বোধ করেন। সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জের তবারিপাড়া গ্রামের রুবাইয়া খাতুন রাকা, বাবা মো. রাসেল হোসেন সরকারের ছোট জমি থেকে আয় করেন। রুবাইয়া মানবিক বিভাগে জিপিএ‑৫ পেয়েছেন, কিন্তু কলেজের ফি কীভাবে বহন করবেন তা নিয়ে চিন্তিত। শেরপুরের হালগড়া ফটিয়ামারী উচ্চ বিদ্যালয়ের সুমাইয়া আক্তার সুমী, বাবা তোফাজ্জল হোসেনের স্বপ্নে চিকিৎসক হওয়া, মা শাহিনা বেগমের একক প্রচেষ্টায় বড় হয়েছে। তিনি বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ‑৫ পেয়েছেন, তবে উচ্চশিক্ষার খরচ নিয়ে অনিশ্চিত।
প্রতিটি বিদ্যালয়ের শিক্ষক তাদের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন। ফরিদপুরের প্রধান শিক্ষক ওয়াহিদা খানম বলেছেন, আর্থিক সমস্যায় পড়ে যদি শিক্ষার ধারাবাহিকতা ব্যাহত হয়, তবে তা শিক্ষক ও সমাজের দায়িত্ব। গোপালন্দের প্রধান শিক্ষক সোনাতন কুমার রুবাইয়ার পাশে সমর্থন কামনা করেছেন। শেরপুরের সহকারী প্রধান শিক্ষক এ এইচ মুরাদও সুমাইয়াকে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেলে আরও উন্নতি করবে বলে আশাবাদী। এই চারজন শিক্ষার্থী গরিবি সত্ত্বেও উচ্চস্বপ্ন দেখছে, তবে তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন।