কামিনীর পুরনো বনসাই ৬ লাখ টাকায় বিক্রি, ডব্লিউভিএ মিলনায়তনে ২৫তম বনসাই প্রদর্শনী শুরু
বয়স অর্ধশতাব্দি অতিক্রান্ত কামিনীর বনসাইটি এখনো ছোট আকারের, তবে এর দাম ছয় লাখ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।
বয়স অর্ধশতাব্দি অতিক্রান্ত কামিনীর বনসাইটি এখনো ছোট আকারের, তবে এর দাম ছয় লাখ টাকা নির্ধারিত হয়েছে। এই গাছটি অনিসুল হক রক্ষণাবেক্ষণে রয়েছে এবং গত বৃহস্পতিবার থেকে ডব্লিউভিএ মিলনায়তনে, ধানমন্ডি ২৭ নম্বর সড়কে, চার দিনের জন্য অনুষ্ঠিত হচ্ছে ২৫তম বার্ষিক বনসাই প্রদর্শনী। অনুষ্ঠানটি সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত উন্মুক্ত থাকবে।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের অতিরিক্ত অধ্যাপক ও শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুল হক উপস্থিত ছিলেন। তিনি বনসাই শিল্পের বাড়তে থাকা জনপ্রিয়তা উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ বনসাই সোসাইটির (বিবিএস) সভাপতি নাজমা শফিকের নেতৃত্বে জাপান দূতাবাসের জনসংযোগ ও সংস্কৃতি শাখার উপপ্রধান মিজ তাকাহাসি মনোরি, অভিনেত্রী আফসানা মিমি এবং সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক অনিসুল হকসহ বহু অতিথি বক্তব্য রাখেন। মোট ৩০০ের বেশি বনসাই প্রদর্শিত হবে, যার মধ্যে বঁইচি, তমাল, ঘূর্ণি, খৈয়া‑বাবলা ইত্যাদি বিরল প্রজাতি এবং বট, পাকুড়, তেঁতুল, হিজল, কামিনী, অর্জুন, শেওড়া সহ দেশীয় গাছের বিভিন্ন রূপ অন্তর্ভুক্ত। মূল্য ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ছয় লাখ টাকা পর্যন্ত নির্ধারিত হয়েছে।
বনসাই চর্চায় বয়সের পাশাপাশি গাছের নান্দনিকতা, পাত্রের গঠন এবং মাটির গুণমান গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য। কিছু প্রদর্শনীতে শিলা, ভাস্কর্য এবং জাপানি মূর্তি ব্যবহার করে পাহাড়ি পরিবেশের অনুকরণ করা হয়েছে। তবে দেশে এই শিল্প এখনও পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি; সীমিত স্থান, আর্থিক সীমাবদ্ধতা এবং কম বাণিজ্যিক চাহিদা মূল বাধা। জাপান, চীন, ভিয়েতনাম ও মালয়েশিয়ার মতো দেশে বাণিজ্যিকভাবে বনসাই চাষের প্রচলন রয়েছে, যা বাংলাদেশে এখনো দেখা যায় না।