ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহের ছবি রাখার ফলে তীব্র প্রতিবাদ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহের তিনটি ছবি যুক্ত করা হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহের তিনটি ছবি যুক্ত করা হয়। ছবিগুলো যুক্ত করার পর ফেসবুকে তীব্র সমালোচনা দেখা দেয়। বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ছাত্র ফেডারেশনসহ বিভিন্ন সংগঠন প্রতিবাদ জানায়। গতকাল দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু তৈয়ব হাবিলদার ছবিগুলো ছিঁড়ে ফেলেন এবং ‘এটি জিন্নাহের বাংলাদেশ নয়, এটি শেখ মুজিবের বাংলাদেশ’ বলে মন্তব্য করেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেয় এবং একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে যে জিন্নাহ ও তৎকালীন ছাত্রসংঘের নেতা আবদুল মালেকের ছবি ভাষা আন্দোলন ও স্বাধীনতার ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ১৯৪৭ সালে পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর‑জেনারেল নিযুক্ত হন। ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ তিনি ঢাকা রেসকোর্স ময়দানে উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণা দেন। এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ করে এবং পরবর্তী বছরগুলোতে ভাষা আন্দোলন তীব্র হয়, যা ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষা শহীদদের শহীদত্বে শেষ হয়। জিন্নাহের এই ভাষা‑সংক্রান্ত বক্তব্যকে মার্কিন ইতিহাসবিদ স্ট্যানলি ওলপার্ট ‘পাকিস্তানের সবচেয়ে বিতর্কিত বিষয়’ বলে উল্লেখ করেন।
ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহের ছবি যুক্ত করার পাশাপাশি তৎকালীন ছাত্রসংঘের নেতা আবদুল মালেকের ছবি রাখা হয়েছে, যদিও সংগ্রহশালায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কোনো ঐতিহাসিক ছবি নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তানজীমউদ্দিন খান বলেন, এই পরিবর্তন স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের ইতিহাসকে বিকৃত করার প্রচেষ্টা। সংগ্রহশালার সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ জিন্নাহের ছবি রাখার পক্ষে যুক্তি দেন যে ছবির নিচে তার বাংলা ভাষাবিরোধী অবস্থান উল্লেখ করা হয়েছে, অন্যথায় ঐ তথ্য ইতিহাস থেকে লুকানো হতো।